অটোয় উঠতেই চমকে উঠেছিলেন মহিলা। অটোর ভিতরের বন্দোবস্ত দেখে তাক লেগে গিয়েছিল তরুণীর। আরও বিস্ময় অপেক্ষা করেছিল যাত্রীর জন্য। কারণ চালকের সঙ্গে আলাপ করতেই জানতে পারলেন তাঁর ‘অন্য’ পরিচয়। চেন্নাইয়ের শোলিঙ্গানাল্লুর থেকে যাত্রা করেছিলেন ওই তরুণী। তরুণী চালকের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই তা নজর কেড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় তরুণী তাঁর অটোর যাত্রার বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন এই যাত্রাটি তাঁর কাছে কিছুটা ভিন্ন। কারণ অটোর ভিতরের ব্যবস্থা দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেখানে যাত্রীদের জন্য সংবাদপত্র ও ম্যাগাজ়িনের ব্যবস্থা ছিল। ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বই রাখা ছিল। সঙ্গে সচল আইপ্যাড, বিনামূল্যে চকোলেট, ছাতা, একটি মিনি কুলার, কফিতে ভরা একটি ফ্লাস্ক এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই। অটোতে একটি সাইনবোর্ডের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষিত হয় তরুণীর। সেখানে লেখা ছিল, “নার্স, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, শিক্ষক এবং চিকিৎসকদের জন্য বিনামূল্যের পরিষেবা।” অটোর ব্যবস্থা দেখে স্বাভাবিক ভাবেই চালকের পরিচয় জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। চালকের নাম আন্নাদুরাই। হাসিখুশি চালককে প্রথম দর্শনে যা মনে হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। কথাপ্রসঙ্গে যাত্রী জানতে পারেন সাতটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন অটোচালক। তিনি টানা ‘টেডএক্স’-এ বক্তৃতা করেছেন এবং গুগ্ল ও মাইক্রোসফ্টের মতো সংস্থায় বক্তৃতা করেছেন বলে ভিডিয়োয় দাবি করেছেন তরুণী।
যাত্রা শেষ হওয়ার আগে চালক তরুণীর পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তরুণী যখন জানালেন যে তিনি একাধারে শিক্ষিকা ও চিকিৎসক, তখন ভাড়া দেওয়ার বহু চেষ্টা সত্ত্বেও আন্না তাঁর কাছ থেকে ভাড়া নিতে অস্বীকার করেন। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। অটোচালকের লড়াকু মনোভাব নিয়ে নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড়। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘আমরা সবাই নিজেদের চাকরি নিয়ে অভিযোগ করি। ইনি শিখিয়ে দিলেন যে কোনও কাজকে যথেষ্ট ভালবাসলে, খারাপ দিনগুলোতেও নিজের শত ভাগ দিলে যে কোনও কিছুতেই সফলতা পাওয়া যায়।’’ দ্বিতীয় নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘মানুষের সঙ্গে যিনি এমন আন্তরিক আচরণ করেন, ঈশ্বর তাঁর মঙ্গল করুন।”