Advertisement
E-Paper

আমেরিকাকে বার্তা দিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে বটে, কিন্তু ‘দিল্লি’ এখনও অনেকটাই দূর!

মঙ্গলবার ভারত এবং ইইউ-র শীর্ষ নেতৃত্ব মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান। তবে চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক ভাবে তা-ও জানানো হয়নি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৫
(বাঁ দিক থেকে) ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন।

(বাঁ দিক থেকে) ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। ছবি: পিটিআই।

ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা এফটিএ) চূড়ান্ত হলেও, তা কার্যকর হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়া এক সরকারি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার ভারত এব‌ং ইইউ-র শীর্ষ নেতৃত্ব মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান। তবে এই দিন চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। কিন্তু তার পরেও কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। যেমন, এ বার দু’পক্ষের লিগ্যাল টিম চুক্তির খুঁটিনাটি দিকগুলি খতিয়ে দেখবে। চুক্তিপত্রও খুঁটিয়ে দেখা হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এই যাচাইপ্রক্রিয়া পাঁচ থেকে ছ’মাস চলতে পারে। তার পরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। গোটা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের গোড়ায় নতুন চুক্তি কার্যকর হতে পারে।

এই চুক্তিকে ভারতের ‘বৃহত্তম বাণিজ্যচুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, গোটা বিশ্ব এই চুক্তিকে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে বর্ণনা করছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনও এই চুক্তির প্রশংসা করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ভারতের পাশাপাশি বিপাকে পড়তে হয়েছে ইউরোপের দেশগুলিকেও। এই আবহে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করে সরাসরি আমেরিকাকে রাজনৈতিক বার্তা দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি দেশে ভারতের ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। আবার ইউরোপের অন্য দেশগুলির পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্কহ্রাস বা প্রত্যাহার করবে নয়াদিল্লি। এই চুক্তির ফলে বিশ্বে রফতানিযোগ্য ২৫ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক আরোপ হচ্ছে না। এর ফলে উপকৃত হবেন ভারত এব‌ং ইউরোপের ওই দেশগুলিতে থাকা মোট ১৯০ কোটি ক্রেতা। তাই এই চুক্তিকে অনেকেই ‘সব চুক্তির জননী’ বলছেন।

পণ্য রফতানির পরিমাণের নিরিখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যসঙ্গী। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির ৯৬.৬ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ভারতে ঢুকতে পারবে। এর ফলে ভারতের বাজারে যেমন ইউরোপের পণ্যগুলির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, তেমনই ইউরোপের বাজারেও ভারতীয় পণ্যের দাম কমবে।

ইউরোপের ২৭টি দেশের পণ্যে শুল্কহ্রাস বা প্রত্যাহার হওয়ায় ভারতের বাজারে সস্তা হবে ওয়াইন,বিয়ার, অলিভ অয়েল, মার্জারিন, ভোজ্যতেল, ফলের রস, অ্যালকোহলহীন বিয়ার, প্রক্রিয়াজাত খাবার (পাউরুটি, পেস্ট্রি, বিস্কুট, পাস্তা, চকোলেট, পোষ্যদের খাবার), ভেড়ার মাং‌স, সসেজ এবং অন্যান্য মাংসজাত খাদ্যপণ্য।

Free Trade Agreement European union
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy