ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আর ভাল সম্পর্ক নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আগের বন্ধুত্বে ইতি পড়েছে! এমনই দাবি করলেন আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। শুধু মোদী নন, অন্য বিশ্বনেতা যাঁদের সঙ্গে ট্রাম্পের ভাল সম্পর্ক ছিল, তাঁদেরও সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রশাসনের প্রাক্তন আধিকারিক।
মোদী এবং ট্রাম্পের বন্ধুত্বের কথা বহুল চর্চিত। কখনও মোদীর আমেরিকা সফর, আবার কখনও ট্রাম্পের এ দেশে আসা— এ সবই নতুন বার্তা বহন করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে বলে দাবি। নেপথ্যে বণিজ্যচুক্তি জট এবং ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক চাপানো! দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। এর জন্য ট্রাম্পের ‘নীতি’কে দায়ী করলেন বোল্টন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘এলবিসি’-কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বোল্টন বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রিজ়মের মধ্যে দিয়ে দেখেন।’’ উদাহরণ হিসাবে মার্কিন প্রশাসনের প্রাক্তন আধিকারিক তুলে ধরেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের ওঠানামাকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকা এবং রাশিয়ার সম্পর্ক কতটা ভাল হবে, তা নির্ভর করে ট্রাম্প-পুতিনের সম্পর্কের সঙ্গে।’’
ট্রাম্পের প্রথম জমানায় তাঁর প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন বোল্টন। তবে তিনি বরাবরাই ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁকে ট্রাম্পের অন্যতম সমালোচকও বলা চলে। অন্য দিকে, ট্রাম্পও তাঁকে ভাল চোখে দেখেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের রোষের মুখে পড়েছেন বোল্টন। গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগে সম্প্রতি এফবিআই বোল্টনের মেরিল্যান্ডের বাড়ি এবং ওয়াশিংটনের অফিসে তল্লাশি চালায়। তবে তার পরেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চুপ থাকেননি বোল্টন। আবার তিনি তাঁর সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করলেন ট্রাম্পকে। তাঁর কথায়, ‘‘মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক ভাল ছিল। আমার মনে হয়, এখন আর সেটা নেই। এটা সকলের জন্য একটা শিক্ষা।’’ ব্রিটেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারকেও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন বোল্টন।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাক্তন আধিকারিক মনে করেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আরও কয়েক দশক পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। শুধু তা-ই নয়, এই পদক্ষেপ মোদীকে আরও বেশি চিন এবং রাশিয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বোল্টনের কথায়, ‘‘এই পরিস্থিতিতে বেজিং নিজেকে আমেরিকা এবং ট্রাম্পের বিকল্প হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।’’
রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে ‘জরিমানা’ হিসাবে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্কনীতিই নয়াদিল্লিকে বেজিং-মস্কোর অক্ষের দিকে আরও ঠেলে দিয়েছে!
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
২২:১৪
‘বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কাজ করছি আমরা’, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জানালেন, ভারত আক্রান্ত হলে পাশে দাঁড়াবে আমেরিকা -
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!