ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে এ বার মুখ খুললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মন্ত্রক আগেই বিবৃতি দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি ‘গভীর উদ্বেগের’। এ বার সেই ‘উদ্বেগের’ আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন মন্ত্রী জয়শঙ্কর। বুঝিয়ে দিলেন, ভারত চায় পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, ভেনেজ়ুয়েলার সাধারণ মানুষেরা যেন ভাল থাকে। এটাই দিল্লির মূল উদ্বেগ।
জয়শঙ্কর বর্তমানে ছ’দিনের সফরে ইউরোপে রয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি ছিলেন লুক্সেমবার্গে। সেখানে এক আলোচনাসভায় বক্তৃতার সময়ে দিল্লি-কারাকাস সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি। বহু বছর ধরে যে ভেনেজ়ুয়েলার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে, তা-ও স্পষ্ট করেন।
ভেনেজ়ুয়েলার উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছে। আমার মনে হয়, আপনাদের সেটি আপনাদের দেখা উচিত। আমি যদি ওই বিবৃতিটি সংক্ষেপে বোঝাই, তা হলে বলতে হবে— আমরা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অনুরোধ করছি তারা যেন আলোচনায় বসে। তারা যেন এমন একটি সিদ্ধান্তে আসে যাতে ভেনেজ়ুয়েলার সাধারণ মানুষের উপকার হয়। সে দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে। দিনের শেষে এটাই আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয়।” জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভেনেজ়ুয়েলার সঙ্গে আমাদের বহু বছর ধরে খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকেই যাক না কেন, আমরা চাই সেখানকার মানুষ ভাল থাকুক।”
গত সপ্তাহে ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় আমেরিকা। ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হানা দিয়ে সে দেশেই প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁরই প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনা। বর্তমানে আমেরিকার জেলে বন্দি রয়েছেন মাদুরো। এই পরিস্থিতিতে ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডেলসি রোড্রিগেস। তবে ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনই ভেনেজ়ুয়েলায় নির্বাচন হতে দিতে তিনি চান না। ট্রাম্পের দাবি, নির্বাচনের আগে সে দেশে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, কারাকাসে মার্কিন হানার পরে ট্রাম্পের প্রশংসায় মুখ খুলেছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পেরই পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। যদিও ট্রাম্প আগেই বলেছেন, মাচাদো ভাল মানুষ হলেও দেশ চালানোর উপযোগী নন। মাদুরো-বিরোধী নেত্রী মাচাদোর জনপ্রিয়তা কতটা রয়েছে, তা নিয়েও সংশয়ী ট্রাম্প। এমন এক পরিস্থিতিতে ভেনেজ়ুয়েলা প্রসঙ্গে ফের এক বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত।
বস্তুত, ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে এই নিয়ে তৃতীয় বার প্রতিক্রিয়া দিল ভারত। প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল গত শনিবার রাতে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ভেনেজ়ুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয়দের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করেন। যে কোনও প্রয়োজনে সেখানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ভারতীয়দের ওই দেশে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর পরে গত সোমবার আরও একটি বিবৃতি দেয় নয়াদিল্লি। বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ভেনেজ়ুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ভারত ‘গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’। সেখানে এ-ও লেখা হয়, “ভেনেজ়ুয়েলার বাসিন্দাদের সুরক্ষা এবং হিতার্থে ভারতের সমর্থন অটুট রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গোটা অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আর্জি জানাচ্ছি।” তবে নয়াদিল্লির প্রথম সারির মন্ত্রীদের মধ্যে এই প্রথম কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন ভেনেজ়ুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে।