ভেনেজ়ুয়েলার থেকে তেল আমদানি করতে চায় তাঁর প্রশাসন। আগেই তা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার তিনি জানিয়ে দিলেন, কত পরিমাণ তেল ভেনেজ়ুয়েলা থেকে পাবে আমেরিকা। ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তিকালীন প্রশাসন আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল দেবে, যা বিক্রি হবে বাজারমূল্যে! তিনি এ-ও ঘোষণা করেন, তেল বিক্রি করে যা টাকা আসবে তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতে। কেন তিনি এমন চান, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ট্রাম্প।
আমেরিকার তরফে যতই দাবি করা হোক না কেন তারা ভেনেজ়ুয়েলা দখল করতে চায় না, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বার বার বুঝিয়ে দিয়েছেন সে দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর প্রশাসনের হাতেই। এমনটা মনে করছেন অনেকে। ভেনেজ়ুয়েলার থেকে তেল নেওয়ার বিষয় দ্রুত চূড়ান্ত করতে চান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমি জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বলেছি।’’ কী ভাবে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে তেল আসবে আমেরিকায়, তা-ও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, ‘‘স্টোরেজ জাহাজে করে তেল এনে সরাসরি আমেরিকার বন্দরে নামানো হবে।’’
ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভান্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। অনেকের দাবি, ট্রাম্পের নজর আসলে রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলার বিপুল তৈলভান্ডারে। আর সেই কারণে ভেনেজ়ুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযান মার্কিন সেনার। ভেনেজ়ুয়েলার গদিতে নিকোলাস মাদুরো থাকলে তা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই তাঁকে তুলে এনে বন্দি করা হয়েছে। মাদুরোকে সরিয়ে আসলে তা অধিগ্রহণ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেনেজ়ুয়েলার কুর্সিতে আপাতত তিনি এমন একজনকে বসাবেন, যিনি আমেরিকার ‘হাতের পুতুল’। সেই সুযোগেই দেশটির তৈলভান্ডারে অবাধে রাজত্ব করতে চায় ওয়াশিংটন। যদিও প্রথম থেকেই আমেরিকা সেই দাবি নস্যাৎ করছে।
আরও পড়ুন:
তবে ট্রাম্পের নয়া দাবির পর অনেকে মনে করছেন, ভেনেজ়ুয়েলার তৈলভান্ডারের ‘দখলই’ মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আনা তেল বিক্রি করে যে টাকা আসবে তা সে দেশের এবং আমেরিকার কল্যাণে কাজে ব্যবহার করা হবে!
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁরই প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন সেনা। বর্তমানে আমেরিকার আইন অনুযায়ী, তাঁর বিচার পর্ব শুরু হয়েছে নিউ ইয়র্কের আদালতে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে সোমবার শপথ নিয়েছেন সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেস। তাঁর নেতৃত্বে সরকার চলছে। তবে সেই সরকারের উপর আমেরিকার ‘প্রভাব’ থাকবে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন, এখনই ভেনেজ়ুয়েলায় কোনও নির্বাচন হবে না। একই সঙ্গে ডেলসিকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।