মেদ ঝরাতে কেউ কড়া ডায়েটের ফাঁদে পড়ে হাঁসফাঁস করছেন, কেউ আবার কঠোর শরীরচর্চায় মন দিচ্ছেন। চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, বাড়াবাড়ি ছাড়াই ওজন কমতে পারে। তা ছাড়া, ওজন কমানোর অর্থ পছন্দের খাওয়া পুরোপুরি বাদ দেওয়াও নয়, বরং মেপে এবং বুঝে খাওয়াটাই জরুরি। তা ছাড়া, মেদ গলাতে গেলে শুধু খাওয়ায় নজর দিলে হবে না বরং ঘুমটিও জরুরি।
ওজন কমাতে কোন তিন কৌশল কাজে আসবে?
১। বেসাল মেটাবলিক রেট (বিএমআর) জেনে নিয়ে সেই মতো কতটা ক্যালোরির প্রয়োজন, তা হিসাব করে নিন। বিএমআর কত জানার জন্য মোবাইলে নানা ধরনের অ্যাপ পাওয়া যায়। তার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। উচ্চতা, ওজন জানালেই অ্যাপ বিএমআর কত বলে দেবে। সেই অনুযায়ী দৈনিক ক্যালোরির পরিমাণ ঠিক করতে হবে। প্রতি দিন যত ক্যালোরি দরকার, তার চেয়ে ২০০ ক্যালোরি কম খেতে হবে বা বেশি খেলে শরীরচর্চার মাধ্যমে তা খরচ করতে হবে। যাতে প্রতি দিন ২০০ ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি হয়।
২।শুধু ক্যালোরি নয়, প্রোটিনও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালোরি যে কোনও খাবার খেলেই মিলতে পারে। তবে লক্ষ রাখা দরকার, সেই ক্যালোরির ৩০-৩৫ শতাংশ যেন প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে আসে। প্রোটিন খাবার পরিপাকে শক্তি খরচ বেশি হয়। পেটও ভরা থাকে বলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
৩। দৈনন্দিন ক্যালোরির চাহিদা পূরণে পুষ্টির ভারসাম্য জরুরি। ৩০-৩৫ শতাংশ প্রোটিন, ৪০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট এবং ২৫-৩০ শতাংশ থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট।
দিল্লির পুষ্টিবিদ কণিকা মলহোত্র এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, ক্যালোরির অঙ্ক এবং ঘাটতি তৈরির তত্ত্ব বুঝতে অসুবিধা হলে সহজ উপায় হল অস্বাস্থ্যকর ভাজাভুজি বাদ দেওয়া। মাঝরাতে উঠে মিষ্টি, লোভনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা ওজন বৃদ্ধি এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, খাবারের মধ্যে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পাশাপাশি খুব জরুরি হল ফাইবার এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস। সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য এবং ওজন কমানোর জন্যও পুষ্টির এই ভারসাম্য জরুরি। ওজন কমানোর ডায়েটে তাই উচ্চ ফাইবার এবং প্রোটিন যুক্ত খাবার থাকা প্রয়োজন। ফাইবার পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
প্রোটিন কেন জরুরি?
প্রোটিন কলাকোষে শক্তি জোগাতে, মেটাবলিজ়ম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রোটিন পরিপাকে বেশি ক্যালোরি ক্ষয় হয়। তা ছাড়া প্রোটিন খাবার খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভরা থাকে বলে অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
শরীরচর্চা: তলপেটের মেদ কমাতে বা সার্বিক ওজন কমাতে হলে দরকার শরীরচর্চাও। ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করলে পেশি এবং দৈহিক গড়ন ভাল হয়। মেদ গলে দ্রুত। এর সঙ্গে হাঁটহাটি, হালকা জগিংও ভাল।