চোখ খুলেই অ্যালার্ম বন্ধ করে ফোন হাতে তুলে নেন? সকাল শুরুর অভ্যাস কি খানিক এমনই? কিন্তু এখানেই যে দিনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি সুযোগ হারাচ্ছেন। কারণ, দিনের শুরুটা যদি সূর্যের আলো দিয়ে হয়, তা হলে শরীর আর মন, দুই-ই বদলে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ভোরের নরম সূর্যালোক শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। এই আলো ভিতরে ভিতরে শরীরের নানা প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি মানুষের শরীরের জৈবিক ছন্দকে ঠিক করে দেয়। ভোরের আলো মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়, এখন জেগে ওঠার সময়। এর ফলে ঘুমের ও ঘুম ভাঙার ছন্দ ঠিক থাকে এবং রাতে স্বাভাবিক ভাবে ঘুম আসতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, সকালে সূর্যালোক পেলে, রাতেও ভাল ঘুম হবে। কিন্তু রাতারাতি সব কিছু ছন্দে ফিরবে না। তাই রোজের রুটিনে এই অভ্যাসটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সামগ্রিক ভাবে সুস্থ রাখে শরীর। মন ও শরীর, দুই-ই ভাল থাকে।
ভোরের আলো মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়, এখন জেগে ওঠার সময়। ছবি: সংগৃহীত
এর উপকারিতা কী কী?
· সকালের সূর্যালোক মস্তিষ্কের জন্য একটি শক্তিশালী সঙ্কেত। যা মানুষকে সতর্ক করে, জাগিয়ে তোলে, মেজাজ ঠিক রাখে এবং ঘুম ও ঘুম ভাঙার চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটারের উৎপাদন ও নিঃসরণ শুরু করে।
· এই অভ্যাস শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্য বা শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে। সারা দিন শরীর আরও স্থির ভাবে কাজ করতে পারে। হঠাৎ ক্লান্তি বা গায়ে জোর কমে যাওয়ার সমস্যা কম হয়।
· সূর্যালোক শরীরে এমন কিছু হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা মন ভাল রাখা, মনোযোগ বাড়ানো এবং সারা দিন শক্তি ধরে রাখার সঙ্গে জড়িত।
· শরীরের জৈবিক ছন্দ অর্থাৎ সার্কাডিয়ান ছন্দকে ঠিক করে দেয়। অর্থাৎ, সকালে সূর্যালোক পেলে, রাতেও ভাল ঘুম হবে।
আরও পড়ুন:
সকালের সূর্যালোক গায়ে নিলে কোন কোন হরমোন কী ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়?
· ভোরের সূর্যালোক এন্ডোরফিন নিঃসরণে সাহায্য করে। ‘হ্যাপি হরমোন’ হিসাবে পরিচিত এই হরমোন ক্ষরণের ফলে মানসিক চাপ কমে।
· মেলাটোনিন, অর্থাৎ যা ঘুম আনে, সেই হরমোনের পরিমাণ কমায়, তাই ঘুম থেকে পুরোপুরি জেগে উঠতে সাহায্য করে।
· সূর্যালোকের সংস্পর্শে সেরোটোনিন উৎপাদন বাড়ে, যা মেজাজ ভাল রাখে, মনোযোগ বৃদ্ধি করে। ফলে পরবর্তীতে রাতে ভাল ঘুম হয়।
· সকালের আলো কর্টিসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি ঘটায়, যাতে শরীর জাগ্রত অবস্থায় আসতে পারে। এই আকস্মিক বৃদ্ধি আপনার ঘুম ভাঙিয়ে দেবে। এর ফলে সতর্কতা বাড়ে এবং শারীরিক কার্যকলাপ শুরু হয়।
অনেকেই সকালে উঠে ঘরের মধ্যে থাকেন, সরাসরি ফোন বা স্ক্রিনে চোখ রাখেন। ফলে শরীর প্রাকৃতিক আলো পায় না, আর সেই সঙ্গে নষ্ট হয় শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ। ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিট বারান্দায় দাঁড়ানো, ছাদে হাঁটা বা রাস্তায় একটু হেঁটে নেওয়া, এই ছোট্ট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।