E-Paper

এপস্টিন ফাইলে উল্লেখ মোদীর, ওড়াল বিদেশ মন্ত্রক

নিউ ইয়র্কের জেলে ২০১৯ সালের অগস্টে আত্মঘাতী এপস্টিনের সঙ্গে এক সময়ে বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতা, ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে তার সম্পর্কে আমেরিকান প্রশাসনের হাতে থাকা ফাইলে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৮
নরেন্দ্র মোদী।

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত আমেরিকান আইন দফতরের ফাইলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উল্লেখ নিয়ে মুখ খুলল বিদেশ মন্ত্রক। সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ইজ়রায়েল সফর ছাড়া তাঁর সম্পর্কে ওই ফাইলে থাকা সব কথোপকথনই এক অপরাধীর অবমাননাকর ও ভিত্তিহীন দাবি। তবে বিষয়টি নিয়ে মোদী সরকারকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। এপস্টিন ফাইলে মোদীর উল্লেখ নিয়ে আগামী কয়েক দিনে দেশীয় রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হতে পারে বলে ধারণা রাজনীতিকদের একাংশের।

নিউ ইয়র্কের জেলে ২০১৯ সালের অগস্টে আত্মঘাতী এপস্টিনের সঙ্গে এক সময়ে বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতা, ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে তার সম্পর্কে আমেরিকান প্রশাসনের হাতে থাকা ফাইলে। দীর্ঘ দিন ওই ফাইল প্রকাশে রাজি হয়নি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকান আইনসভা কংগ্রেসে পাশ হওয়া এক আইনের ফলে বেশ কিছু ফাইল প্রকাশে বাধ্য হয়েছে তারা। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত ফাইলে রয়েছে ৩০ লক্ষ পাতার নথি, ২ হাজার ভিডিয়ো ও ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। আগেই এপস্টিন ফাইলে খোদ ট্রাম্প ছাড়াও প্রাক্তন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, ধনকুবের বিল গেটস-সহ

বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির উল্লেখ দেখা গিয়েছে। এপস্টিনের বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌনচক্রে ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল।

বর্তমানে আমেরিকান আইন দফতরের প্রকাশিত এপস্টিন ফাইলে সামনে এসেছে একটি ই-মেল। তাতে এপস্টিন লিখেছে, ‘‘ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ মেনে ইজ়রায়েলে গিয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সুবিধে হতে পারে এমন কথাবার্তা বলেছেন ও কাজকর্ম করেছেন। সেটা কাজে লেগেছে।’’ ভারত ও ইজ়রায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পরে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৭ সালে ইজ়রায়েলে যান মোদী। কংগ্রেসের মতে, এপস্টিনের মতো চরিত্রের পরামর্শে মোদী ইজ়রায়েলে চলেছেন, এটা জাতীয় লজ্জার বিষয়। দলীয় মুখপাত্র পবন খেড়ার মতে, ‘‘বোঝাই যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এপস্টাইনের একটি সরাসরি সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্কের ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। এটা সঠিক কূটনৈতিক পদ্ধতি মানা, বিচারবুদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।’’ খেড়ার প্রশ্ন, কী জন্য এপস্টিনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল? আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কোন সুবিধের কথা মাথায় রেখে মোদী চলছিলেন? কী কাজ হয়েছিল?

আজ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেন, ‘‘তথাকথিত এপস্টিন ফাইলে একটি ই-মেলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ইজ়রায়েল সফরের উল্লেখের কথা আমাদের নজরে এসেছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইজ়রায়েলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর ছাড়া ই-মেলের বাকি বক্তব্য এক অপরাধীর ভিত্তিহীন দাবি ছাড়া কিছু নয়। তা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া উচিত।’’

কিন্তু এর পরেও কংগ্রেসের তোপ থামেনি। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়া সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন এপস্টিন ফাইলে থাকা অন্য একটি কথোপকথন। সেটি আমেরিকান রাজনৈতিক কুশলী স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে এপস্টিনের। ফাইল অনুযায়ী, ওই কথোপকথন ২০১৯ সালের ২৪ মে-র। তাতে এপস্টিনকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ‘‘মোদীর সঙ্গে চিত্তাকর্ষক বৈঠক হয়েছে। উনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। মোদীর প্রতিনিধি বললেন ওয়াশিংটনে কেউ ওঁর সঙ্গে কথা বলেন না। কিন্তু ওঁর আসল শত্রু চিন এবং ওই অঞ্চলে তাদের সহযোগী পাকিস্তান। ওঁরা (ভারত) ২০২২ সালে জি-২০ রাষ্ট্রগোষ্ঠীর সম্মেলনের আয়োজন করবেন। উনি (মোদী) সম্পূর্ণ ভাবে আপনার ভাবনাকে সমর্থন করেন।’’ ব্যাননকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ‘‘উনি এখানে এলে এই নম্বরে ফোন করুন।’’ খেড়ার প্রশ্ন, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ঠিক আগে মোদী এপস্টিনের সঙ্গে কথা বলছিলেন কেন? ওয়াশিংটনে মোদীর সঙ্গে কেউ কথা বলতে না চাইলে তিনি আমেরিকার সঙ্গে তাঁর মৈত্রীর কথা বলে দেশকে ভাঁওতা দিয়েছিলেন কেন? এক বছর পরেই গলওয়ান সঙ্কটের সময়ে সবচেয়ে বড় শত্রু চিনকে তিনি ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছিলেন কেন? স্টিভ ব্যাননের কোন ধারণার সঙ্গে মোদী সহমত ছিলেন? মোদীর সঙ্গে ব্যাননের বৈঠক হয়েছিল কি? সেখানে কী আলোচনা হয়েছিল?

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্রও। তাঁর মতে, ‘‘জেফ্রি এপস্টিন এক জন শিশু পাচার চক্রে যুক্ত ব্যক্তি ও যৌন অপরাধী। কিন্তু কংগ্রেস তার ই-মেলেও পরিবর্তন করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জেফ্রি এপস্টিনের পরামর্শ নিয়েছিলেন। এই জালিয়াতির ফল ভুগতে হবে।’’ পবন খেড়ার পাল্টা কটাক্ষ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যে ইজ়রায়েলে নাচগান করেছিলেন তা কিন্তু সম্বিত অস্বীকার করছেন না। তাঁর কেবল দাবি যে, প্রধানমন্ত্রী এপস্টিনের পরামর্শ নেননি। তাহলে প্রশ্ন ওঠে প্রধানমন্ত্রী কার পরামর্শ নিয়েছিলেন? কংগ্রেসকে হুমকি না দিয়ে সম্বিত এই প্রশ্নের জবাব দিন।’’

কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশের মতে, ‘‘এপস্টিন ফাইলের সাম্প্রতিকতম সংস্করণে বারবার প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ রয়েছে। ফলে সরকারি মুখপাত্র মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Epstein Files Jeffrey Epstein

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy