ইনদওরে আবার বিষাক্ত জল প্রাণ কাড়ল? অভিযোগ তেমনই। মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় পেশায় ই-রিকশাচালক হেমন্ত গায়কোয়াড়ের। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর জন্য দায়ী বিষাক্ত জলই।
মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের ভগীরথপুরার বাসিন্দা হেমন্ত গত ১৫ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে খবর। তাঁকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই প্রাণ হারান তিনি। যদিও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, “হেমন্ত ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ক্যানসারই।”
হেমন্তের ছোট ভাই সঞ্জয় গায়কোয়াড় সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “আমার দাদার দূষিত জলের কারণেই মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ১৫ দিনের অসুস্থতায় আমরা তাঁকে হারালাম।”
হেমন্তের বড় মেয়ে রিয়া বলেন, “দূষিত জলের কারণে বাবার ডায়রিয়া হয়েছিল। তাই আমরা বাবাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভগীরথপুরায় দীর্ঘ দিন ধরেই দূষিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছিল। কারও পেটে ব্যথা, কারও বমি বমি ভাব— এ রকম নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। ভগীরথপুরায় দূষিত জলের কারণে বমি ও ডায়রিয়া হয়ে এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুরকর্তৃপক্ষ এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভগীরথপুরায়ের ওই এলাকার এখনও পর্যন্ত ৫১টি টিউবওয়েলের জলে দূষণ পাওয়া গিয়েছে এবং গবেষণাগারের রিপোর্টে ‘ই কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার ধরা পড়েছে।
উল্লেখ্য, ভগীরথপুরায় একটি থানার কাছে পাইপে ফাটল চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাচক্রে, যে জায়গায় পাইপ ফাটে, সেই পাইপলাইনের উপরে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। পাইপে ফাটল ধরায় শৌচাগারের জল চুঁইয়ে পানীয় জলের সঙ্গে মিশেছে। আর তা থেকেই এত বড় বিপত্তি। ‘বিষাক্ত’ জল পান করায় ভাগীরথপুরায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু মানুয হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।