প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটা ফোনেই ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েলের সংঘাতে ইতি পড়তে পারে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানালেন এ দেশে নিযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম রাষ্ট্রদূত হুসেন হাসান মির্জা। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরান-ইজ়রায়েলের সংঘাতের মাঝে থাকার কোনও ইচ্ছাই নেই আরব আমিরশাহির। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য কোনও পক্ষকেই তাদের জমি ব্যবহার করতেও দেওয়া হবে না বলে জানান হুসেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হুসেন বলেন, ‘‘সত্যি কথা বলছি, আমরা এই সংঘাতে কী ভাবে জড়িয়ে পড়লাম, তা নিয়ে নিশ্চিত নই। এই সংঘাতে আরব আমিরশাহির জড়িয়ে পড়ার কোনও কারণই নেই।’’
প্রসঙ্গত, আবু ধাবির ভৌগোলিক অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তারা ইরানের প্রতিবেশী। অন্য দিকে, আব্রাহাম চুক্তি অনুসারে ইজ়রায়েলের সহযোগী। সে কারণে, আরব আমিরশাহি দুই দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। হুসেন বলেন, ‘‘আমরা দু’জন (ইরান এবং ইজ়রায়েল)-এর মধ্যে আলোচনা চালাতে পারি।’’
আরও পড়ুন:
এর পরেই হুসেন জানান, আরব আমিরশাহি-সহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির নেতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রভাব কতটা। তিনি জানান, শুধু রাষ্ট্রনেতারাই নন, ওই অঞ্চলের বাণিজ্য সংগঠনগুলিও মোদীকে সম্মান করে। তাঁর কথায়, ‘‘ইরান এবং ইজ়রায়েলে মোদীর একটা ফোনই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। ইতি টানতে পারে। একটা ফোনকলই যথেষ্ট।’’ হুসেন এখানেই থামেননি। এর পরে ইরান এবং ইজ়রায়েলকে যেন একটু কড়া বার্তাই দেন তিনি। বলেন, ‘‘ওরা আমাদের মাটিতে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এটা মানা যায় না।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। পশ্চিম এশিয়ার যে সব দেশে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে প্রত্যাঘাত করছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে আরব আমিরশাহিতেও। তাতেই সেখানকার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যহত হয়েছে। সম্পত্তিহানি হচ্ছে। ঘরবন্দি হয়ে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন ভারতে নিযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রথম রাষ্ট্রদূত।