অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক কূটনৈতিক অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ। অন্তত তেমনটাই জানাচ্ছে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকাকে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নথি। তবে কেবল তারেক রহমান সরকারের উপরে দায় চাপাচ্ছে না দিল্লি। শেখ হাসিনার জমানা থেকে অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকাকে ১ হাজারের বেশি কূটনৈতিক ‘নোট’ এবং ৪৫৬ বার তাগাদা পাঠিয়েছে ভারত। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে যাঁদের মনে করা হচ্ছে তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই করে দেশে ফেরত নেওয়া হোক — এই অনুরোধই ছিল যার উপজীব্য। কিন্তু কার্যকরী সাড়া পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, উপরোক্ত অনুরোধের সংখ্যা-সহ ওই কূটনৈতিক নথি বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ৩০ এপ্রিল ঢাকাকে পাঠানো হয়েছে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক পরের দিন। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক যে দিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় দূতকে তলব করে, তার কিছুক্ষণ পরেই এটি পাঠানো হয়। ওই কূটনৈতিক নথিটিতে ঢাকাকে আরও জানানো হয়, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই বাংলাদেশের তরফে এই ক্ষেত্রে ভারতের দিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাব দেখা গিয়েছে। ওই নথিতে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে বসবাস নিয়ে ২,৮৬২টি নাগরিকত্ব বিচারের মামলা ঝুলে রয়েছে। অথচ ভারত সরকার দেশের আইন এবং পদ্ধতি মোতাবেক অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার সঙ্গেও যা সঙ্গতিপূর্ণ।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মোদী সরকারের ঢাকাকে দেওয়া ওই বার্তায় অনুপ্রবেশকে ‘মূল বিষয়’ বলে অভিহিত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফলের ঠিক আগে লেখা ওই কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা যেন ভারতে অবৈধ বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো ‘মূল বিষয়ে’ তাদের নজর নিবদ্ধ করে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল বিদায়ের পর এ বার ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অগ্রাধিকার পেতে চলেছে অনুপ্রবেশ এবং ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া।
এই কারণেই দু’দিন আগেই স্বর চড়াতে দেখা গিয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়ালকে। বিস্তৃত ভাবে জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশ এবং ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে এ বার শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে রাজ্য এবং কেন্দ্র। বিএনপি সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার পরে এতটা স্পষ্ট এবং কড়া কূটনৈতিক স্বর নয়াদিল্লির কাছ থেকে শোনা যায়নি। তিনি বলেছেন,“বিষয়টি নিয়ে (পুশ ব্যাক) গত কয়েক দিনের বেশ কিছু মন্তব্য কানে এসেছে। ভারত থেকে বেআইনি ভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর মূল বিষয়টির সঙ্গে সংলগ্নভাবেই আমরা একে দেখছি। অবশ্যই তার জন্য আমাদের বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। ২৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাই করার মামলা বাংলাদেশ ফেলে রেখেছে। তার মধ্যে অনেকগুলিরই ৫ বছরেরও বেশি সময়েওনিষ্পত্তি হয়নি।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)