×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০২ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

অশান্তি ছড়াতে ছক কি পুলিশের

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ০৪:৪৭
ছবি: পিটিআই।

ছবি: পিটিআই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

নয়াদিল্লি

Advertisement

কৃষকদের মিছিলে অশান্তি পাকানোর ছক কষেছিল খোদ পুলিশই! এমনকি বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভিড়ের সুযোগে কৃষক নেতাদের গুলি করে খুনেরও অঙ্ক কষা হয়েছিল! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে শুক্রবার সিঙ্ঘুতে কৃষকদের বিক্ষোভস্থল থেকে ধৃত যুবক। এই স্বীকারোক্তি ঘিরে চাঞ্চল্যের মধ্যেই এ দিন স্বরাজ ইন্ডিয়া দলের নেতা যোগেন্দ্র যাদব দাবি করেন, ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলের অনুমতি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাঁর দাবি, কৃষকদের মিছিলের কারণে ইন্ডিয়া গেট চত্বরে হওয়া প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কোনও প্রভাব পড়বে না। মিছিল শান্তিপূর্ণ হবে।

গত কাল বিক্ষোভস্থল থেকে ধৃত ব্যক্তির দাবি, কৃষকদের আন্দোলনে অশান্তি ছড়াতে তাদের মতো অন্তত আট জন যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠিয়েছে হরিয়ানার রাই থানার পুলিশ। ওই যুবকের দাবি, আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙতে ২৪ জানুয়ারি, রবিবার পরিকল্পিত ভাবে গণ্ডগোল পাকানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই কাজে ওই যুবতীদের ব্যবহার করার কথা ছিল। গণ্ডগোলের সুযোগে মঞ্চে থাকা চার কৃষক নেতাকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনাও ছিল পুলিশের। কী ভাবে ঝামেলা পাকাতে হবে, তা তাদের রাই থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) প্রদীপ সিংহ দাঁড়িয়ে থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। অবশ্য মুখে মাস্ক থাকায় প্রদীপ সিংহের চেহারা সে কখনও দেখতে পায়নি বলে দাবি ওই যুবকের। যদিও পরে জানা গিয়েছে, রাই থানার এসএইচও-র নাম বিবেক মালিক। তিনি গত সাত মাস ধরে ওই থানায় কর্মরত। তাঁর দাবি, রাই থানায় প্রদীপ নামে কোনও পুলিশকর্মী নেই। ওই যুবকের দাবি, কেবল আগামিকাল নয়, ২৬ জানুয়ারি ট্র্যাক্টর মিছিলের সময়ও কৃষকদের উপর পুলিশের হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি, ২৬ জানুয়ারির ট্র্যাক্টর মিছিল দিল্লি প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাদের দু’রাজ্যের সীমানা থেকে ফিরে যেতে বলা হবে। আন্দোলনকারীরা আদেশ অমান্য করে দিল্লির দিকে এগোলে দিল্লি পুলিশ ভিড়ের প্রথম সারির কৃষকদের গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই স্বীকারোক্তি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, ওই যুবককে চাপ দিয়ে এ সব বিবৃতি দেওয়ানো হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের আন্দোলন ভাঙতে সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি-শাসিত হরিয়ানা সরকার।

এর মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় যোগেন্দ্র যাদব জানান, প্রজাতন্ত্র দিবসে কিষাণ গণতন্ত্র মিছিলে অংশ নেবেন দিল্লি ও একাধিক রাজ্যের সীমানায় আটকে থাকা কৃষকেরা। আজ দিল্লি পুলিশ এবং সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতারা বৈঠক করে ট্র্যাক্টর মিছিলের রাস্তা প্রাথমিক ভাবে চূড়ান্ত করে ফেলেন।
আজ ধর্নাস্থল-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন আজাদ হিন্দ কিষাণ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আজও কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নামেন আন্দোলনকারীরা। মধ্যপ্রদেশে রাজ্যপাল আনন্দীবেনের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচি নেন রাজ্য কংগ্রেস কর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা রাজভবনের দিকে এগোলে পুলিশ বাধা দিলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ভোপালের রাস্তা।

Advertisement