শর্তসাপেক্ষে পশ্চিমঙ্গে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ এবং ২ মার্চ, রবিবার এবং সোমবার শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তন যাত্রা কর্মসূচি করতে পারবে বিজেপি। তবে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত চলবে না। কোথাও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।
পরিবর্তন যাত্রার জন্য সময়ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে আদালত। বলা হয়েছে ১ এবং ২ মার্চ বেলা ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। বিজেপি সূত্রে খবর, দোল উপলক্ষে ৩ এবং ৪ মার্চ পরিবর্তন যাত্রা বন্ধ থাকবে। সে ক্ষেত্রে ১ এবং ২ তারিখেই যাত্রার উদ্বোধন সেরে ফেলা হবে। ৫ মার্চ থেকে ফের শুরু হবে পরিবর্তন যাত্রার কর্মসূচি।
আরও পড়ুন:
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্তরের অনেক ওজনদার নেতা-মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বিভাগের সংখ্যা ১০। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তার মধ্যে ন’টি বিভাগেই পরিবর্তন যাত্রা হবে। শুধু কলকাতা মহানগর বিভাগে যাত্রা হবে না। কারণ, গোটা কর্মসূচির পরিসমাপ্তি পর্ব হিসাবে ব্রিগেড সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব কলকাতা মহানগর বিভাগের উপরে রয়েছে। ১ মার্চ ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধন হবে কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতায়। ২ মার্চ আরও কয়েকটি জায়গায় কর্মসূচি রয়েছে। সেগুলি হল ইসলামপুর, হাসন, সন্দেশখালি এবং আমতা। ১ মার্চেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাতে বদল হয়েছে। শাহের সফর এক দিন পিছিয়ে গিয়েছে। বিজেপি জানাচ্ছে, শাহ ২ মার্চ রায়দিঘি থেকে পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধন করতে পারেন।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ‘যোগদান মেলা’র আয়োজন করেছিল বিজেপি। তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস থেকে নেতাদের দলে যোগদান করানো হয়েছিল সেই মেলায়। এ বার তেমন কোনও কর্মসূচি না থাকলেও পরিবর্তন যাত্রার আয়োজন করেছে বিজেপি। কর্মসূচির পরিসমাপ্তি হিসাবে ১৪ মার্চ ব্রিগেডে জনসভা রয়েছে। সেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষে আগামী কয়েক দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় শাসকদলের একাধিক পরিচিত মুখ দেখা যাবে। শাহ ছাড়া আপাতত আর কারও সফরসূচিতে পরিবর্তন নেই।