আরও কড়া হল বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রক আইন (এফসিআরএ)। গতকাল ওই বিল সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তাতে কী কারণে অনুদান নেওয়া হচ্ছে, ওই অনুদান দিয়ে কী কাজ হবে তা জানাতে বাধ্য থাকবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি (এনজিও)। পাশাপাশি, ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে নিজেদের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে সরকারকে। সংগঠনগুলি রাজনৈতিক বিষয়ে সমাজমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করতে পারবে না।
নরেন্দ্র মোদী সরকার শুরু থেকেই অসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির অনুদানে কড়া নজর রাখার নীতি নিয়ে চলছে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বিদেশ থেকে আসা ওই অর্থের একটি বড় অংশ ভারতে জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে খরচ হয়। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ওই অনুদান মূলত গরিব হিন্দু ও জনজাতি সমাজকে টাকার লোভ দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করা হয়। যা আটকাতে গত কয়েক বছরে একাধিকবার এফসিআরএ আইনে পরিবর্তন এনেছে মোদী সরকার। গতকাল এই সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা অনুদান কোন খাতে, কোন রাজ্যের কোন এলাকায় খরচ হবে— তার বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে সরকারকে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে বলা হয়েছে, তারা ভবিষ্যতে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, শিক্ষা ও সামাজিক স্তরে কোন ক্ষেত্রে কাজ করতে চায়, তা আগামী এক বছরের মধ্যে জানাতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ধর্মীয় খাতে কোনও সংস্থা বিদেশি অনুদান সংগ্রহ করতেই পারে। সেই অনুদান ব্যবহার করে ধর্মস্থানের মেরামতি ছাড়াও ধর্মীয় শিক্ষা, প্রাচীন পুঁথি ও বইয়ের অনুবাদ, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মোপদেশ, ধ্যানশিবির, জনজাতির বিশ্বাস ও রীতিনীতির নথিবদ্ধকরণ ও পুনরুজ্জীবনে প্রশ্নে নেওয়া পদক্ষেপ করতে পারে সংস্থাগুলি। কিন্তু ধর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত কোনও কাজ করা যাবে না। ওই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা রয়েছে আইনে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, একাধিক বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দাতার মতাদর্শের ভিত্তিতে অনেক সময়ে এ দেশের নানা রাজনৈতিক বিষয়ে প্রচ্ছন্ন ভাবে জনমত তৈরি করে থাকে। নতুন নিয়মে সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট করতে পারবে না সংগঠনগুলি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)