Advertisement
E-Paper

ফলের প্রবণতা স্পষ্ট হতেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে বিজেপি, শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরোধী শিবিরে

এ রাজ্যেও কার্যত রকেট গতিতে উত্থান বিজেপির। ১৫ থেকে ২০টি আসন পাওয়ার প্রবণতা মিলছে গণনায়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০১৯ ১৪:৩৪
কলকাতায় বিজেপির সদর কার্যালয়ের সামনে উচ্ছ্বাস। —নিজস্ব চিত্র

কলকাতায় বিজেপির সদর কার্যালয়ের সামনে উচ্ছ্বাস। —নিজস্ব চিত্র

সকাল যদি দিনের পূর্বাভাস হয়, তা হলে ভোটগণনাতেও সেই প্রবাদ বজায় থাকল। প্রাথমিক প্রবণতা আসতেই দেশ জুড়ে উচ্ছ্বাস বিজেপি শিবিরে। হতাশ বিরোধীরা। যদিও মুখে তা প্রকাশ করছেন না। এ রাজ্যেও ব্যাপক উত্থান বিজেপির। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েও বলেছেন, ‘‘সব পরাজিতরাই পরাজিত নয়।’’ অন্য দিকে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় ধন্যবাদ দিয়েছেন রাজ্যবাসীকে। গাঁধীনগরের বাড়িতে সংবাদ মাধ্যমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা হীরা বেন।

উল্টো দিকে, কার্যত শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরোধী শিবিরে। বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়া চন্দ্রবাবু নায়ডু নিজেই অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। সরকার গঠন করছে জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআরসিপি। গণনা শুরুর পর ফলের ইঙ্গিত মিলতেই কংগ্রেস সভাপতির দিল্লির বাড়ি ছাড়েন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী।

এ রাজ্যেও কার্যত রকেট গতিতে উত্থান বিজেপির। ১৫ থেকে ২০টি আসন পাওয়ার প্রবণতা মিলছে গণনায়। তার মধ্যেই জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মমতার টুইট, ‘‘জয়ীদের ধন্যবাদ। কিন্তু সব পরাজিতরাই পরাজিত নন। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করব এবং তার পর আমাদের মতামত জানাব। ভোটগণনা শেষ হতে দিন এবং ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের ফল মিলতে দিন, তার পর।’’ অন্য দিকে, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মিরাকল নয়, বরং এই ফল প্রত্যাশিতই ছিল। দলের কর্মীরা যে ভাবে পরিশ্রম করেছেন এবং রাজ্যবাসী বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। তৃণমূলের শাসনে রাজ্যবাসী নিরাপদ মনে করেননি। তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ চাইছিল প্রকৃত পরিবর্তন।’’

বিজেপির এই পরিবর্তন স্পষ্ট হতেই কলকাতায় দলের সদর কার্যালয়ের সামনে উচ্ছ্বাসে মাতেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। ব্যান্ড-তাসার সঙ্গে শুরু হয়ে যায় নাচ। মিষ্টিমুখ করানো হচ্ছে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ পথচলতি মানুষকেও।

রাজ্য ছাড়িয়ে গোটে দেশেও বিজেপির জয়জয়কার। উল্টো দিকে বিরোধী শিবিরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা সম্ভবত অন্ধ্রপ্রদেশে। এই রাজ্যে এ বার লোকসভা ভোটের সঙ্গেই বিধানসভা ভোটও হয়েছে। আর বিধানসভার ফলে ক্ষমতা হারাতে চলেছেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। সেই তেলুগু দেশম পার্টি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু, যিনি মূলত বিরোধী দলগুলিকে একজোট করতে দৌত্য করছিলেন। তিনিই এ বার মুখ্যমন্ত্রিত্বের গদি হারাতে চলেছেন। ২৭৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ১৫০টি দখল করতে চলেছে জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআরসিপি। টিডিপি সূত্রের খবর, আজ দুপুরেই ইস্তফা দিচ্ছেন চন্দ্রবাবু। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন জগনমোহন রেড্ডি।

রাজস্থানে কয়েক মাস আগেই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। কিন্তু সেই রাজ্যে লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা হতেই জয়পুরে বিজেপির সদর কার্যালয়ে উৎসবের মেজাজ। আতসবাজি পুড়িয়ে মিষ্টি বিলি করে বিজয় উৎসব পালন করছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।

কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস-এর জোট সরকার হলেও সে রাজ্যে লোকসভায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। বেঙ্গালুরুর বিজেপি কার্যালয়েও উৎসবের মেজাজ। একই ছবি ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে উত্তরপ্রদেশের লখনউ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে।

অন্য দিকে, দলের নেতারাও দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন বিজেপিকে আরও এক বার নির্বাচিত করার জন্য। দলের নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার টুইট, ‘ভারতের সাধারণ মানুষ মোদীজিকে আরও এক বার দেশ চালানোর সুযোগ দিয়েছেন, দেশবাসী তাঁকে ভালবাসেন। দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বের মানুষকে। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, মোদীজি আমাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

Election Results 2019 Lok Sabha Election 2019 BJP NDA TMC Congress Celebration
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy