পুত্রের আমন্ত্রণে সাড়া দিলেন বাবা! বুধবার ছিল মকর সংক্রান্তি। এই উপলক্ষে আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র তথা ‘জনশক্তি জনতা দল’ (জেজেডি) প্রধান তেজপ্রতাপ যাদব। ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সন্ধ্যায় পুত্রের বাড়িতে উপস্থিত হন লালু। শুধু তা-ই নয় বাবার পাশে পুত্রকে বসে থাকতেও দেখা যায়। সমাজমাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে তেজের বাড়িতে ছিল ‘দই-চূড়া’ উৎসব। এ দিন তাঁর বাড়িতে লালু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান, তেজের মামা সাধু যাদব এবং প্রভুনাথ যাদবও। তবে অনুষ্ঠানে সাধুর পৌঁছোনোর আগেই, লালু সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এত দিন পর লালু এবং তেজকে একসঙ্গে দেখে তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে জল্পনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে তেজ তাঁর পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই মর্মে গত ১৩ জানুয়ারি নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “আজ আমি ১০ সার্কুলার রোডে পৌঁছে আমার বাবা সম্মানীয় শ্রী লালু প্রসাদ যাদব এবং মা সম্মানীয় শ্রীমতী রাবড়ি দেবীর আশীর্বাদ নিয়েছি। এ ছাড়া ছোট ভাই তথা বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘দই-চূড়া’ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র দিয়েছি। একই সঙ্গে, আজ আমার প্রিয় ভাইঝি কাত্যায়নীকেও কোলে নিয়েছি, তার সঙ্গে খেলেছি। চমৎকার মুহূর্ত কাটানোর সুযোগও পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ এবং ‘পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ’ করার কারণে গত মে মাসে তেজকে দল এবং পরিবার থেকে বিতাড়িত করেছিলেন লালু। তার পর থেকে ধারাবাহিক ‘অরাজনৈতিক’ কর্মসূচি পালন করেছেন বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী তেজ। বিহারের সমস্তিপুর জেলার হাসনপুর কেন্দ্রের বিধায়ক তেজপ্রতাপ পরিবার ও দল থেকে বিতাড়নের জন্য নাম না করে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন তাঁর ভাই তথা ‘লালুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী’ তেজস্বী যাদবের দিকে। এমনকি বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘জনশক্তি জনতা দল’ (জেজেডি) গঠন করে লালুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে নির্বাচনে পরাজিত হন তেজ।