আবগারি মামলা থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া-সহ ২১ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিবিআই। আগামী ৯ মার্চ, সোমবার সিবিআইয়ের আবেদন শুনবে দিল্লির উচ্চ আদালত।
শুক্রবার দিল্লির আদালত আবগারি দুর্নীতির মামলা থেকে কেজরীদের অব্যাহতি দেয়। তার পরে সে দিনই দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই। সূত্রের খবর, সিবিআই মনে করে এই মামলায় হয় কিছু দিক উপেক্ষা করা হয়েছে, নয়তো যথেষ্ট বিবেচনা করা হয়নি। আগামী ৯ মার্চ দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা এই মামলা শুনবেন।
২০২১ সালের নভেম্বরে নতুন আবগারি নীতি আনে দিল্লির তৎকালীন সরকার। মদ কেনার পাশাপাশি বিক্রির পদ্ধতিতেও বেশ কিছু বদল আনা হয়। নতুন আবগারি নীতিতে সরকারি মদের দোকানগুলি বন্ধ করে বেসরকারি মদের দোকানগুলিকে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। কেজরীওয়াল সরকার চেয়েছিল, নতুন করে ৮৪৯টি মদের দোকান খোলা হবে। রাজধানীর ৩২টি অঞ্চলে এই মদের দোকান খোলার পরিকল্পনা ছিল। নতুন আবগারি নীতিতে মদের কালোবাজারি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে দাবি করেছিলেন দিল্লির তদানীন্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আবগারি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিসৌদিয়া। কিন্তু সেই নীতি কার্যকর করতে আবগারি লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বেনিয়ম এমনকি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ফলে নতুন আবগারি নীতি চালুর ঠিক ৮ মাস পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন:
দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয়কুমার সাক্সেনা তৎকালীন আপ সরকারের নতুন নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেন। সেই সুপারিশ মেনে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। সেই মামলাতেই কেজরী, সিসৌদিয়াদের গ্রেফতার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তাঁরা। এই মামলায় তদন্ত করে ইডিও। কেজরীরা জামিন পেলেও মামলা চলছিল দিল্লির নিম্ন আদালতে।
গত শুক্রবার দিল্লির আদালত আবগারি দুর্নীতির মামলা থেকে কেজরীদের অব্যাহতি দেয় রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। কেজরীওয়ালের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জোরালো তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু তেমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সিবিআইয়ের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, আবগারি দুর্নীতি মামলায় মূল চক্রান্তকারী ছিলেন কেজরীই। কিন্তু সেই অভিযোগের ক্ষে তেমন জোরালো তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ সিবিআই। মণীশের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেনি, যা থেকে সিসৌদিয়ার অপরাধমূলক আচরণের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্য অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রায়ই এমনই কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল নিম্ন আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র সিংহের। দিল্লির নিম্ন আদালতের নির্দেশে খুশি হয়নি তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করে তারা।