Advertisement
E-Paper

কোরিয়ান গেমে বুঁদ তিন বোন ভিডিয়ো বানিয়ে ইউটিউবে তুলত! ক্ষিপ্ত বাবা চ্যানেল বন্ধ করতেই কি একসঙ্গে মরণঝাঁপ?

তিন বোনের বাবা চেতন কুমার জানিয়েছেন, তাঁর কন্যারা কোরীয় সংস্কৃতিতে মজে ছিল। তার সঙ্গেই একাত্ম বোধ করত। সারা দিন দেখত কোরিয়ান ড্রামা। নিজেরা একটি ইউটিউব চ্যানেলও খুলেছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩০
গাজ়িয়াবাদে একসঙ্গে ১০তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তিন বোন।

গাজ়িয়াবাদে একসঙ্গে ১০তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তিন বোন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গাজ়িয়াবাদের ভারত সিটিতে ১০তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তিন বোন। ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর বয়সি সেই তিন কিশোরীর দেহ তাঁদের ১০ তলার জানলার ঠিক নীচে পড়ে ছিল। পুলিশ জানতে পেরেছে, তারা তিন জনেই অনলাইন দুনিয়ায় আসক্ত ছিল। স্কুলে যেত না কেউ। কোভিড অতিমারির পর থেকে সকলের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে ছিল না কোনও বন্ধুবান্ধবও। বাড়িতেই সারাদিন মোবাইল ফোনে মজে থাকত তিন বোন। এমনকি, স্কুলের বিকল্প হিসাবে বাড়িতে আলাদা করে পড়াশোনার কোনও বন্দোবস্তও করা হয়নি।

তিন বোনের বাবা চেতন কুমার জানিয়েছেন, তাঁর কন্যারা কোরীয় সংস্কৃতিতে মজে ছিল। তার সঙ্গেই একাত্ম বোধ করত। সারা দিন দেখত কোরিয়ান ড্রামা। এমনকি, তিন বোন নিজেরাই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছিল। কোরিয়ান ড্রামা এবং বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র সম্পর্কে সেখানে ভিডিয়ো আপলোড করা হত। নিজেরা কোরিয়ায় যেতে চাইত তিন জনই। এই আসক্তির ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন তাদের বাবা। ফলে বাবার সঙ্গে বাড়িতে তিন বোনের সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। কিন্তু ঠিক কী কারণে তারা একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

ইউটিউব চ্যানেলে কয়েক মাসের মধ্যে দু’হাজার ফলোয়ার সংগ্রহ করে ফেলেছিল গাজ়িয়াবাদের তিন বোন। মৃত্যু ১০ দিন আগে সেই চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। মনে করা হচ্ছে, পরিবারের চাপে চ্যানেলটি বন্ধ করে দিয়েছিল তারা। তাদের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, তিনি দুই কন্যাকে দু’টি মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু কোরিয়া নিয়ে আসক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় রেগে সেই ফোন দু’টি কেড়ে নেন। বিক্রিও করে দেন। এর পর থেকে মায়ের ফোন ব্যবহার করত তিন বোন। সেখানেই কোরিয়ান সিনেমা দেখত, ভিডিয়ো তৈরি করত। তাদের বাবার বক্তব্য, ‘‘ওরা নিজেদের আলাদা দুনিয়ায় বাস করছিল। কোরিয়া যেতে চাইত। আমি বলতাম, আমরা ভারতীয়। ভারতেই থাকব।’’

চেতন নিজে স্টক ব্যবসায়ী। বাজারে ৩০ লক্ষ টাকার উপর দেনা রয়েছে তাঁর। তবে দেনা বা অভাবের কারণে তাঁর কন্যারা আত্মহত্যা করেছে, মানতে চাননি চেতন। জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ মেয়েদের সঙ্গে শেষ বার তাঁর কথা হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া করেছে কি না, বাবা খোঁজ নিয়েছিলেন। চেতনের কথায়, ‘‘আবার কোরিয়া যাওয়ার কথা বলেছিল ওরা। আমি রাজি হইনি। তার পর আমার স্ত্রীর ফোন নিয়ে ওরা নিজেদের ঘরে চলে যায়। মধ্যরাত পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করেছে। রাত ২টো নাগাদ ওরা ঘর থেকে বেরিয়ে পুজোর ঘরে গিয়ে ঢোকে এবং ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তার পর জানলা থেকে ঝাঁপ দেয়।’’

পুজোর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকেছিল পুলিশ।। ভিতরে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। সেটি বাবার উদ্দেশে লেখা ছিল। ডিসিপি নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন, যে দু’টি ফোন কন্যাদের কিনে দিয়েছিলেন চেতন, সেগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তার জন্য একটি দলও গঠন করা হয়েছে। ফোনগুলি পাওয়া গেলে তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে অজানা কিছু তথ্য মিলতে পারে। তিন জনের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ঝাঁপ দেওয়ার ফলেই মৃত্যু বলে নিশ্চিত করেছে ওই রিপোর্ট। অন্য কোনও সম্ভাবনার উল্লেখ নেই।

Ghaziabad Suicide Case Korean film Online game
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy