ভেনেজু়য়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মোরোস ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আমেরিকা বন্দি করার পরে ব্রিকস গোষ্ঠীতে ভারতের সহযোগীরা নিন্দায় মুখর। গোটা ঘটনাক্রমকে নিন্দা না করা বা আমেরিকার নামোচ্চারণ না করে শুধুমাত্র ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করার ভারতীয় অবস্থান নিয়ে ঘরোয়া রাজনীতিতেও যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির ভাষ্য— যা করা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় এক রাজনৈতিক পালাবদল হচ্ছে, যার সুযোগ ভবিষ্যতে ভারতও নিতে পারে। এত দিন সেখানে ব্রিকস-এর অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলি যেমন ব্রাজ়িল, রাশিয়া, চিন ফায়দা তুলছিল নানাভাবে, ভারতের বড় কোনও অংশ তাতে ছিল না। ফলে যেখানে ভারতের স্বার্থ জড়িয়ে নেই সেখানে যেচে পক্ষ নিয়ে আমেরিকার বিরোধিতা করা খুব বিবেচনার কাজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষত এমন এক সময়ে, যখন ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি ঝুলে রয়েছে।
একশো বছরেরও আগে (১৯২৪) রবীন্দ্রনাথ আর্জেন্টিনা গিয়ে সেখানের মন জয় করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সংযোগ আজও খুবই অগভীর।
দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে বদল এলে সেখানে ভারত তার পায়ের ছাপ সেখানকার কূটনৈতিক মানচিত্রে ফেলতে পারবে কি না, এখন সেই সুযোগ নেওয়ার কথাই ভাবা হচ্ছে। নয়াদিল্লির মতে, ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকা-বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল চিন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবা। নিকোলাস মাদুরো পর্যায়ে তিনটি ঘটনা সেখানে ঘটল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। প্রথমত, দক্ষিণ আমেরিকায়, উত্তর আমেরিকার আধিপত্য বাড়ল। জনপ্রিয় বামপন্থী রাজনীতির অবসান ঘটে দক্ষিণপন্থার উত্থান আসন্ন হয়ে উঠল। তৃতীয়ত সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল চিন-ইরান-রাশিয়া-কিউবা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)