দুর্ঘটনা নয়। খুনই করা হয়েছে গুজরাতের কংগ্রেস সাংসদ শক্তিসিংহ গোহিলের ভাগ্নের স্ত্রীকে। এমনটাই মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সাংসদের ভাগ্নে যশরাজসিংহই খুন করেছেন তাঁর স্ত্রীকে। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন। অহমদাবাদের ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে গোটা বিষয়টি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছিল। প্রথমে জানা গিয়েছিল, অহমদাবাদের বাড়িতে ভুলবশত যশরাজসিংহের রিভলবার থেকে গুলি বেরিয়ে যায়। সেই গুলি গিয়ে লাগে তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী জাদেজার দেহে। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন। তার আগেই তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ফোন করে নিজেই পুলিশকে জানান স্ত্রীর মৃত্যুর কথা। জানান, তাঁর রিভলবার থেকে ভুল করে গুলি বেরিয়ে গিয়েছে।
ঘটনার তদন্ত প্রাথমিক ভাবে সেই মতোই শুরু করেছিল পুলিশ। ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে, এমন কোনও সন্দেহও ছিল না পুলিশের। ছিল না এমন কোনও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণও। মাত্র দু’মাস আগেই তাঁদের বিয়ে হয়। পরে যশরাজসিংহ নিজেও আত্মঘাতী হওয়ায় তাঁর দাবিকেই প্রাথমিক ভাবে সত্য বলে মনে করছিল পুলিশ। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, ভুল করে গুলি চলেনি। স্ত্রীকে খুনই করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এ বিষয়ে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং ব্যালেস্টিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে এই তদন্তে। তাতে উঠে আসে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত আধুনিক রিভলবারগুলি এমন ভাবেই তৈরি যে ইচ্ছাকৃত ভাবে ট্রিগারে চাপ না দিলে গুলি বেরোনো সম্ভব নয়। তা ছাড়া শুধুমাত্র রিভলবার পড়ে গেলে, বা সেটি পরিষ্কার করার সময়ে গুলি বেরোনোও সম্ভব নয়।
পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্তে আধিকারিকেরা এমন কিছু তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় ইচ্ছাকৃত ভাবেই হত্যা করা হয়েছে ওই মহিলাকে। রাজেশ্বরীর মাথার পিছন দিকে নিখুঁত লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ। অহমদাবাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার জয়েশ ব্রহ্মভট্ট বলেন, “আত্মহত্যার আগে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে আমরা যশকুমারসিংহ গোহিলের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছি। কী কারণে তিনি খুন করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”