লক্ষ্য চারশো আসনের গণ্ডি পার হওয়া। আর সেই লক্ষ্যকে মাথায় রেখে নতুন বছরের একেবারে গোড়া থেকেই লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব। চারশো আসনকে মাথায় রেখে দলের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে, ‘তিসরি বার মোদী সরকার, অব কি বার চারশো পার।’ যার অর্থ, ‘তৃতীয় বার মোদী সরকার, এ বার চারশো পার।’
কয়েক মাস পরেই লোকসভা নির্বাচন। তাই নতুন বছর শুরু হতেই লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে নিজেদের রণকৌশল ঠিক করতে আজ বৈঠকে বসেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সভাপতি জেপি নড্ডার উপস্থিতিতে বৈঠকে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, অশ্বিনী বৈষ্ণব, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, তরুণ চুঘের মতো নেতারা। বৈঠকে দলকে এ যাত্রায় চারশো আসন ছোঁয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোনোর নির্দেশ দেন নড্ডা। ঠিক হয় দলের মূল স্লোগানও। পাশাপাশি লোকসভা ভোটের আগে দলে বেনোজলের প্রবেশ রুখতে একটি স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ভোটের আগে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের বিজেপিতে ঠাঁই দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ওই কমিটির হাতে। আগামী ৬ জানুয়ারি প্রথম বার বৈঠকে বসতে চলেছে ওই কমিটি।
প্রতিটি লোকসভাকেন্দ্রে ভাল ফল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ক্লাস্টার কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নড্ডারা। সাধারণত একটি লোকসভাকেন্দ্রে ছ’টি বা সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র থাকে। দল জানিয়েছে, প্রত্যেকটি বিধানসভার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার দায়িত্বে থাকবেন এক জন দলীয় নেতা। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপার ওয়ারিয়র’। একটি লোকসভার তিনটি বিধানসভা তথা তিন জন ‘সুপার ওয়ারিয়র’ পিছু একটি করে ক্লাস্টার গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হবে রাজ্য পর্যায়ের কোনও পদস্থ নেতার হাতে। পরবর্তী ধাপে ঠিক হয়েছে তিন বা চারটি লোকসভা মিলিয়ে যে যৌথ ক্লাস্টার তৈরি হবে, তাতে প্রচারে যাবেন জেপি নড্ডা, অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহের মতো কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যের দলীয় রাজ্য সভাপতিকে সে রাজ্যের প্রত্যেকটি লোকসভা কেন্দ্রে প্রচার চালানো ছাড়াও সাংগঠনিক ভাবে দলের পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, সেই কেন্দ্রভিত্তিক রিপোর্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পাঠাতে হবে। যার ভিত্তিতে দুর্বল কেন্দ্রগুলিতে পরবর্তী রণকৌশল স্থির করবে দল।
লোকসভা বা বিধানসভার আগে প্রতিটি দলেই অন্য দল থেকে নেতাদের যোগদানের হিড়িক দেখা যায়। বিজেপিও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু পরবর্তী ধাপে টিকিট না পেলে বা টিকিট পেয়ে নির্বাচনে হেরে গেলে ওই নেতাদের ফের আগের দলে ফিরে যাওয়ার নজিরও কম নেই। তাই এই ধাঁচের সুবিধাভোগী নেতাদের দলে যোগদান রুখতে স্ক্রিনিং কমিটিরধাঁচে একটি কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। ওই কমিটি সবুজ সঙ্কেত দিলে তবেই অন্য দল থেকে আসা নেতারা বিজেপিতে যোগদান করতে পারবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)