এ যেন উলট পুরাণ। অন্য রাজ্যে বিজেপি দল ভাঙাতে পারে বলে আশঙ্কায় থাকে অন্য দলগুলি। এ ক্ষেত্রে এনডিএ-র দল ভাঙার আশঙ্কায় গত কাল থেকেই হোটেলবন্দি হয়ে রয়েছেন ওই জোটের বিধায়কেরা। সব মিলিয়ে হোটেল-রিসর্ট রাজনীতির ছায়ায় আগামিকাল রাজ্যসভার ভোট হতে চলেছে ঝাড়খণ্ডে।
শিবু সরেনের মৃত্যু ও দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামিকাল রাজ্যসভার দু’টি আসনে ভোট হতে চলেছে ঝাড়খণ্ডে। আসন দু’টি হলেও এ ক্ষেত্রে প্রার্থী হলেন তিন জন। এ যাত্রায় শাসক দল জেএমএমের প্রার্থী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম, শরিক কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন প্রণব ঝা এবং তৃতীয় জন হলেন বিজেপি সমর্থিত পরিমল নাথওয়ানি। প্রত্যেক প্রার্থীকে জিততে হলে ২৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। এর মধ্যে ইন্ডিয়া মঞ্চের পক্ষে রয়েছে ঠিক ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে জেএমএমের ৩৪ জন বিধায়ক, ১৬ জন কংগ্রেস, চার জন আরজেডি ও দু’জন সিপিআই (এমএল) বিধায়ক রয়েছেন। উল্টো দিকে এনডিএ-র পক্ষে রয়েছেন ২৪ জন বিধায়ক। অভিযোগ উঠেছে ইন্ডিয়া মঞ্চে যে চার জন আরজেডির বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের অর্থের প্রলোভন ও তদন্তের ভয় দেখিয়ে কাছে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। যদিও আজ বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের বাড়িতে বিধায়ক দলের যে বৈঠক হয় তাতে পূর্ণ শক্তিতে উপস্থিত ছিল ইন্ডিয়া মঞ্চ। ঝুঁকি না নিয়ে সেখান থেকে সোজা নিজেদের বিধায়কদের হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে কংগ্রেস।
অন্য দিকে নিজেদের ২৪ জন বিধায়ককে ধরে রাখা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে এনডিএ জোট। জোটে ২১ জন বিজেপি বিধায়ক থাকলেও বাকি তিন জন হলেন এজেএসইউ, জেডিইউ ও এলজেপি (রামবিলাস)। এক জন নির্দল। সূত্রের মতে, ওই নির্দল-সহ তিনটি দলের এক জন করে বিধায়ককে কাছে টানতে তৎপর হয়েছে ইন্ডিয়া মঞ্চ। যার জেরে জোটের বিধায়কদের হোটেলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এনডিএ নেতৃত্ব। জেএমএমের রাজ্যসভার সাংসদ মহুয়া মাঝির কটাক্ষ, ‘‘বিজেপি বিধায়কদের হোটেলে আটকে রাখা থেকেই স্পষ্ট দলের তাঁদের উপরে ভরসা নেই। উল্টো দিকে হেমন্ত সরেনের নিজের বিধায়কদের উপরেভরসা থাকায় কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করেননি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)