E-Paper

খাজনা আটকে উনিশ শতকে, কোপ রাজ্য ভাঁড়ারে

ভূমি দফতরের কর্তাদের মতে, ১৮৫০ সালের নিরিখে ডেসিমেল প্রতি বার্ষিক ১৭ পয়সা খাজনা নেহাত কম ছিল না। খাস রাজধানী শহরে তুলনায় অবস্থাপন্ন মানুষের বসবাস, এই যুক্তিতেই সম্ভবত ব্রিটিশ শাসকেরা এই হারে খাজনা চালু করেছিলেন।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৮:৪৩

—প্রতীকী চিত্র।

গত দু’দশকে খাস কলকাতার চেহারায় বদল এসেছে বটে। কিন্তু ভূমিরাজস্বের নিরিখে রাজধানী শহর পড়ে আছে উনবিংশ শতকে! ভূমি দফতরের কর্তাদের একাংশ বলছে, ১৮৫০ সালে কলকাতা রাজস্ব বিধি চালু হয়েছিল। সে সময় সাবেক কলকাতায় ডেসিমেল প্রতি বছরে ১৭ পয়সা রাজস্ব নেওয়া হত। পরে কলকাতা পুর এলাকায় (১ থেকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড) সেই হারে রাজস্ব চালু হয়। ২০২৬ সালে এসেও খাস কলকাতার (পুর এলাকার ১ থেকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড) খাজনার হার ডেসিমেল প্রতি বছরে ১৭ পয়সা!

উল্লেখ্য, কলকাতা, হাওড়া-সহ কেএমডিএ আওতাধীন পুর এলাকাগুলির জন্য বাইশ বছর আগে খাজনা বিধি চালু করেছিল তৎকালীন বাম সরকার। হাওড়া-সহ অন্যান্য পুর এলাকা তো বটেই, এমনকি কলকাতা পুরসভার সংযুক্ত এলাকাতেও (১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ড)ওই বিধি অনুযায়ী খাজনা নেওয়া হয়। কিন্তু খাস কলকাতায় ওই বিধি কার্যকর হয়নি!

ভূমি দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ ভূমিরাজস্ব নীতি যেখানে চালু ছিল সেখানে এই নতুন বিধি স্বাভাবিক ভাবেই চালু হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে শুধু একটা সরকারি বিজ্ঞপ্তি (গেজ়েট) প্রকাশ করলেই ১৮৫০ সালের বিধির বদলে এই নতুন বিধি কার্যকর হয়ে যেত। কিন্তু তা করা হয়নি। তার ফলেই বছরে অন্তত ২৫০ কোটি টাকা ভূমি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।’’ সূত্রের খবর, তৃণমূল আমলে রাজ্যের সেক্রেটারি কমিটি এই বিধি চালুর কথা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সামনে পেশ করেছিল। কিন্তু ‘মানুষের উপরে করের বোঝা চাপানো যাবে না’—এই যুক্তি দেখিয়ে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। নতুন খাজনা বিধি প্রণয়নে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ মহলেরও সায় ছিল না বলেই আধিকারিকদের একাংশের দাবি।

ভূমি দফতরের কর্তাদের মতে, ১৮৫০ সালের নিরিখে ডেসিমেল প্রতি বার্ষিক ১৭ পয়সা খাজনা নেহাত কম ছিল না। খাস রাজধানী শহরে তুলনায় অবস্থাপন্ন মানুষের বসবাস, এই যুক্তিতেই সম্ভবত ব্রিটিশ শাসকেরা এই হারে খাজনা চালু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ওই হারে খাজনা কার্যত হাস্যকর হয়ে উঠেছে। দফতরের একাংশের মতে, কলকাতা পুরসভার সংযোজিত এলাকা, কেএমডিএ-র আওতাভুক্ত পুর এলাকার মানুষ যদি এই হারে খাজনা দিতে পারে, তা হলে কলকাতার মানুষের উপরে বোঝা চাপানো হবে কী ভাবে? তাঁরা এ-ও বলছেন, এই নতুন খাজনা বিধিতে বহুতল, সাধারণ বাড়ি, ছোট বাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শপিং মল— সবার ক্ষেত্রে খাজনার হার আলাদা। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বিরাট বাড়ির মালিককে যে হারে খাজনা দিতে হবে, সাধারণ গৃহস্থ বাড়ি বা ছোট ফ্ল্যাটের মালিককে তার থেকে কম হারেই খাজনা দিতে হবে। দফতরের একাংশের প্রশ্ন, কলকাতায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হয়েছে। অথচ তারা সেই পুরনো হারেই খাজনা দিচ্ছে। নতুন বিধি চালু না-হওয়ায় কোপ পড়ছে রাজ্যের ভাঁড়ারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Revenue West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy