পিছনের দিকে ফ্ল্যাটগুলির ব্যালকনি গ্রিল দিয়ে আটকানো ছিল। শুধু তা-ই নয়, ছাদে যাওয়ার দরজাও বন্ধ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। আর সে কারণেই আগুন লাগার পরে ‘মৃত্যুফাঁদে’ বদলে গিয়েছিল দিল্লির বিবেক বিহারের বহুতলটি। প্রশ্ন উঠছে বহুতল নির্মাণের ধরন নিয়েও। চারতলা ভবনের প্রতিটি তলে দু’টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে। সামনের দিকে একটি, পিছনের দিকে আর একটি। ওঠানামার জন্য একটিমাত্রই সিঁড়ি রয়েছে। বহুতল নির্মাণের এই ধরনই মৃত্যুর সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল বলেই দাবি পুলিশ এবং স্থানীয়দের।
জানা গিয়েছে, আগুন ধরেছিল বহুতলের সামনের দিকের অংশে। ফলে সামনের দিকে ফ্ল্যাটে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসেন। কিছু বাসিন্দাকে উদ্ধারও করা হয়। কিন্তু সমস্যায় পড়েন বহুতলের পিছনের অংশে থাকা ফ্ল্যাটগুলির বাসিন্দারা। ব্যালকনি থেকে যে নামার চেষ্টা করবেন, সেই সুযোগও ছিল না। পিছনের দিকে ফ্ল্যাটগুলিতে আগুন ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে সাহসে ভর করে ছাদের দিকে ছুটেছিলেন। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। অভিযোগ, ছাদের দরজা তালা দেওয়া ছিল। ফলে দু’দিক থেকে আটকে পড়েছিলেন তাঁরা। আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ গ্রাস করতে করতে উপরের দিকে উঠছিল। ভয়ে, আতঙ্কে ছাদের সিঁড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
আরও পড়ুন:
দমকলের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, দোতলা থেকে উদ্ধার হয় এক জনের দেহ। তিন তলা থেকে উদ্ধার হয় পাঁচ জনের দেহ এবং ছাদে ওঠার সিঁড়ির কাছ থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। রাজধানীর বিবেক বিহারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ন’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও অনেকে।