Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_03-05-26

দিল্লি অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে গিয়েছে পর পর কয়েকটি ঘর, চেনা দায় ঝলসে যাওয়া দেহগুলি! বিবেক বিহারের ঘটনায় মৃত্যু এক বছরের শিশুরও

রবিবার ভোর ৪টের সময় আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, আগুন লাগে দোতলায়। সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে তিন এবং চারতলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘরের ভিতরে অনেকেই আটকে পড়েছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১২:২০
অগ্নিদগ্ধ সেই বহুতল। ছবি: সংগৃহীত।

অগ্নিদগ্ধ সেই বহুতল। ছবি: সংগৃহীত।

চারতলা বাড়িটির তিনটি তলাই পুড়ে গিয়েছে। আগুন কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, বহুতলটির দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার ছবিটা দেখলেই শিউরে উঠতে হয়। রবিবার ভোরে এই বহুতলে মৃত্যু হয়েছে কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের। তার মধ্যে একই পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেই পরিবারের সবচেয়ে খুদে সদস্যও আর বেঁচে নেই। মৃতদের তালিকায় রয়েছে সেই এক বছরের শিশুটিও।

রবিবার ভোর ৪টের সময় আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, আগুন লাগে দোতলায়। সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে তিন এবং চারতলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘরের ভিতরে অনেকেই আটকে পড়েছিলেন। কয়েক জন দৌড়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ছাদের দরজায় তালা দেওয়া ছিল। ফলে আবার নীচে নেমে আসতে হয় কিন্তু তত ক্ষণে চারতলায় পৌঁছে গিয়েছিল আগুন। যাওয়ার কোনও রাস্তা না থাকায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। আগুন নিবে যাওয়ার পরে বহুতলের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।

ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, পুড়ে যাওয়া দেওয়াল, সিঁড়ি। তখনও কোনও কোনও জায়গা থেকে ধোঁয়া বার হচ্ছে। দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়েছে আগুনের তাপে। গোটা বহুতলটি বিধ্বস্ত। সর্বত্র আগুনে গিলে খাওয়ার ছাপ স্পষ্ট। দমকলের ছেটানো জল তখনও গড়িয়ে পড়ছিল ঘরের দেওয়াল সিলিং থেকে। কেউ আটকে আছেন কি না, প্রতিটি ঘরে ঢুকে ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন দমকলকর্মীরা। যে সব দেহ উদ্ধার হয়েছে সেগুলির বেশির ভাগই চেনা দায় বলে এক দমকলকর্মী জানিয়েছেন।

তৃতীয় তলে দমকলকর্মীরা পৌঁছোতেই দেখেন, একটি ঘরে মধ্যে পাঁচটি দেহ পড়ে রয়েছে। বহুতলের পিছনের দিকে ছিল ওই ফ্ল্যাটটি। মৃতেরা হলেন, অরবিন্দ জৈন (৬০), তাঁর স্ত্রী অনিতা (৫৮), তাঁদের পুত্র নিশান্ত (৩৫), তাঁর স্ত্রী আঁচল (৩৩) এবং তাঁদের সন্তান দেড় বছরের আকাশ জৈন। দ্বিতীয় তলে এক জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তিনি হলেন, শিখা জৈন। চতুর্থ তলে দেহ উদ্ধার হয় নিতিন জৈন, তাঁর স্ত্রী শৈলী, তাঁদের পুত্র সাম্যকের।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০ জনকে উদ্ধার করে দমকল। মই লাগিয়ে ব্যালকনি থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বহুতলে মোট আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে। চারতলায় বহুতলের পিছনের অংশে দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তাঁরা কেউ বার হতে পারেননি। কিন্তু বহুতলের সামনের দিকে যে সব ফ্ল্যাট ছিল, সেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সামনের দিকে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা যদি পিছনের দিকের ফল্যাটের বাসিন্দাদের সতর্ক করতেন, তা হলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটত না। মনে করা হচ্ছে, যখন আগুন লাগে, সেই সময় বহুতলের পিছনের দিকে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ফলে তাঁরা পালানোর সুযোগ পাননি। তাঁদের মধ্যে যাঁরা আগুনের আঁচ পেয়েছিলেন, ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, রবিবার ভোরে দিল্লির বিবেক বিহারের বহুতলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেই ঘটনায় ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। কী ভাবে আগুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Fire
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy