নির্বাচন কমিশনের একটি ছ’বছরের পুরনো নথি সোমবার প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যাতে ‘পদ্ম’ চিহ্ন-সহ বিজেপির কেরল শাখার লেখা সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ওই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে কমিশন বিষয়টিকে ‘করণিক ভ্রান্তি’ (ক্ল্যারিকাল মিস্টেক) বলে চিহ্নিত করেছিল। এ বার কমিশন সমাজমাধ্যমে সেই নথি প্রচারের উপর বিধিনিষেধ জারি হল। কেরল পুলিশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পোস্টটি নির্বাচন কমিশনকে অপমান করেছে এবং এমন বিষয়বস্তু প্রচার করছে যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ক্ষুণ্ণ করে।
কেরালা পুলিশের সাইবার সেল মঙ্গলবার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স হ্যান্ডল-সহ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে নোটিস জারি করেছে। তাতে কেরাল বিজেপির সিলযুক্ত কমিশনের ওই চিঠি বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্স হ্যান্ডল ব্যবহারকারীদের কয়েক জন জানিয়েছেন যে তাঁদের পোস্ট মুছে ফেলার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে! কেরল পুলিশের সাইবার সেলের তরফেও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে নোটিস পাঠানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল সে রাজ্যে বিধানসভা ভোট। নির্দেশের নেপথ্যে কমিশনের ‘ভূমিকা’ রয়েছে বলে কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে কেরলের এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা ২৭০টি এক্স হ্যান্ডেল, ২০০টি ফেসবুক পেজ এবং ৯০টি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছি যারা ওই নোটিসটি শেয়ার করেছে। ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকে নোটিসটি সরিয়ে ফেললেও, এক্স তা করেনি। তারা নোটিসটি অ্যাকাউন্টধারীদের সঙ্গে শেয়ার করেছে, যারা পরে (নোটিসটি) নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ করা হবে।’’ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির নোটিসে বলা হয়েছে, ‘যদি আপনি বেআইনি কনটেন্ট সরাতে বা নিষ্ক্রিয় করতে ব্যর্থ হন, তবে আইটি আইনের ৭৯ ধারা অনুযায়ী সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না’। কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মঙ্গলবার জানান, একটি করণিক ত্রুটির কারণে নথিতে থাকা রাজনৈতিক দলের প্রতীকটি নজর এড়িয়ে গিয়েছে।
যদিও তাতে রাজনৈতিক বিতর্ক স্তিমিত হয়নি। কেরলের শাসকদল সিপিএম এ প্রসঙ্গে বলেছে, ‘‘এটি কোনও গোপন বিষয় নয় যে একই ক্ষমতার কেন্দ্র সম্ভবত ভারতীয় নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি—দু’টিকেই নিয়ন্ত্রণ করে। তবুও, অন্তত দুটি আলাদা ডেস্কের শিষ্টাচার বজায় রাখুন’। অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘কমিশনের কাগজে বিজেপি পার্টির স্ট্যাম্প। বিজেপির চিহ্ন। পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন।’’ ছ’বছর আগের ওই ঘটনাকে ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ বলে সাফাই দিয়েছে কমিশন। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘‘এটা ক্লারিক্যাল মিস্টেক, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?’’ মঙ্গলবার মমতা বলার আগে সকালে এ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে কমিশনকে নিশানা করেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটিসের একটি কপি শেয়ার করে কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চেয়ারপার্সন সুপ্রিয়া শ্রিনতে লেখেন, ‘‘বিজেপির পুতুল নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কেরালা পুলিশের তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে।’’ ।