যাত্রাপথে ওষুধের দরকার হলে আর চিন্তা নেই! মুশকিল আসান হবে রেল। দেশের প্রায় হাজারটি স্টেশন চত্বরে ওষুধের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল এবং কেন্দ্রীয় রসায়ন ও সার মন্ত্রক। চব্বিশ ঘণ্টা জেনেরিক ওষুধ মিলবে এই সব দোকানে। অর্থাৎ ব্র্যান্ড নামে নয়, উপাদানের রাসায়নিক নামে বিক্রি হবে এই ওষুধ। গুণমানে এক হলেও দামে যা অনেক সস্তা।
দেশের সমস্ত মানুষের কাছে ন্যায্য মূল্যে উন্নত মানের ওষুধ পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি পরিযোজনা (পিএমবিজেপি) প্রকল্প চালু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইতিমধ্যেই দেশের ৪৫০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০টি ওষুধের দোকান খোলা হয়েছে। যেখানে সস্তায় জেনেরিক ওষুধ কিনতে পারেন রোগী ও তার পরিজনেরা। রসায়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে ওষুধের বাজার প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার। যা নিয়ন্ত্রণ করে কিছু নামী ওষুধ ব্যবসায়ী সংস্থা। গরিবদের কথা ভেবে এই একচেটিয়া ব্যবসা রুখতে গোটা দেশে জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে রসায়ন মন্ত্রক। প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক ওষুধের নাম লিখতে বলা হয়েছে চিকিৎসকদের। পশ্চিমবঙ্গ, কেরলের মতো বেশ কিছু রাজ্য ইতিবাচক পদক্ষেপ করেছে এই ক্ষেত্রে।
প্রত্যন্ত এলাকায় এই পরিষেবাকে ছড়িয়ে দিতে রেল মন্ত্রককেও পাশে নিয়েছে রসায়ন মন্ত্রক। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু ও রসায়নমন্ত্রী অনন্তকুমার। সেই বৈঠকেই স্থির হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১ হাজারটি স্টেশনে এই ওষুধের দোকান খোলা হবে। বিক্রিবাটা কেমন হচ্ছে তা দেখে ধীরে ধীরে এই স্টেশনের সংখ্যা ৫ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, ওষুধ নিতে ভুলে গেলে বা পথে হারিয়ে ফেললে কিংবা সফরের মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্টেশন চত্বরের এই দোকানগুলি থেকে পরিষেবা পাবে স্থানীয়েরাও।