প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলায় অভিযোগে মঙ্গলবার তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ওই তথাকথিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। মঙ্গলবার কমিশনের দেওয়া সময়সীমা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করল কংগ্রেস।
কমিশনের নোটিসের জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কংগ্রেস বলেছে, “আমরা কংগ্রেস সভাপতিকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য দেওয়া স্বল্প সময় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছি। মাত্র ২৪ ঘণ্টা। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, কংগ্রেস সভাপতি বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন বলে এই সময় একেবারেই যথেষ্ট নয়। এতে মনে হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নোটিশটি প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে কার্যকর করছেন। আমরা মধ্যে বিস্তারিত জবাব দাখিল করার জন্য এক সপ্তাহ সময় চাইছি।’’
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি কংগ্রেস নেতাদের একটি প্রতিনিধি দলকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়ার অনুমতিও চেয়েছে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে যে কোনও অছিলায় পদক্ষেপের পথ খুঁজছে কমিশন। লেখা হয়েছে, ‘‘দুর্ভাগ্যবশত, এটি গোপন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।’’ খড়্গের বক্তব্যে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়নি দাবি করে কংগ্রেসের চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘‘স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে আমরা অতীতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ দায়ের করেছি এবং কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।”
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জোটসঙ্গী হিসাবে বিজেপিকে বেছে নেওয়ায় এআইএডিএমকে-র সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গিয়েই খড়্গে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ‘সন্ত্রাসবাদী’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তামিলনাড়ুতে ভোটের প্রচারে গিয়ে মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন খড়্গে। অভিযোগ, সেখানে তিনি বলেন, “যারা আন্নাদুরাইয়ের ছবিতে মালা দেয়, তারা কী ভাবে মোদীর সঙ্গে যোগ দিতে পারে? তাঁর আচরণ সন্ত্রাসবাদীর মতো। তাঁর দল সাম্য ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে না। এই লোকেরা তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে, এর মানে তারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে, তারা আন্নাদুরাই, কামরাজ, পেরিয়ার, কলাইনার (করুণমানিধি), বাবা সাহেব অম্বেডকরের দর্শনকে দুর্বল করছে।” সাংবাদিক বৈঠকে হাজির এক সাংবাদিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “আমি বলতে চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আতঙ্কিত করছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদী বলিনি।’’