E-Paper

ঢাকা: সাবধানে পা ফেলতে চায় দিল্লি

সাউথ ব্লকের আরও ভাবনা, এমন কোনও সংকেত দেওয়া আপাতত দেওয়া হবে না যাতে, বাংলাদেশের ভারত-বিরোধী অংশ বলার সুযোগ পায়, নয়াদিল্লি বিএনপি-র উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭

—প্রতীকী চিত্র।

বাড়তি মাখামাখির প্রয়োজন নেই। শুধু দরজাটা খোলা রাখতে হবে— ভোট পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে এই নীতি নিয়ে চলার কথাই ভাবছে সাউথ ব্লক।

সাউথ ব্লকের আরও ভাবনা, এমন কোনও সংকেত দেওয়া আপাতত দেওয়া হবে না যাতে, বাংলাদেশের ভারত-বিরোধী অংশ বলার সুযোগ পায়, নয়াদিল্লি বিএনপি-র উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। এ কথাও নয়াদিল্লিকে মনে রাখতে হচ্ছে, ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জামাতের উত্থান নজরে পড়ার মতো। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে এই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে একাংশের মতামত।

আগামিকাল বাংলাদেশে নব নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে যাবেন লোকসভার স্পিকার
ওম বিড়লা।

সূত্রের খবর, এই অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে, শুধুমাত্র বিদেশ মন্ত্রকই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও চেয়েছেন। আলোচনায় এটাই উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের ভোটের ফলাফলে জেন জ়ি সে ভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু সে দেশে উগ্র ভারত-বিরোধী ভাষ্য যে উবে গিয়েছে, এমনটা মনে করা ঠিক নয়। বরং সেটাকে মাথায় রেখেই ছোট ছোট পদক্ষেপ করতে হবে এবং সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী থেকেও সতর্ক নজর রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে না গিয়ে স্পিকার ওম বিড়লাকে শপথ অনুষ্ঠানে পাঠানো একটা কৌশলের অঙ্গ বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ মাথায় রাখা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও, অর্থাৎ ২০২১ সালের এপ্রিলে মোদীর ঢাকা সফর নিয়ে মিছিল বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষ হয়েছিল বাংলাদেশে। তাই এ বারে কোনও রকম তিক্ততার
ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।

যে পদক্ষেপগুলি করতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে বাণিজ্য স্বাভাবিক করা। নির্বাচনের কারণে বুধবার থেকে ভারতের সঙ্গে সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ান। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও। যার প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক জায়গায় ফেরেনি। ভারতকে সীমান্তের প্রশ্নে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তে ভারত যদি বাণিজ্যে গতি শ্লথ করে, তাতে আখেরে লাভ হবে জামাতের। উগ্র মৌলবাদীরা ভারত-বিরোধী আন্দোলন তৈরির সুযোগ পেয়ে যাবে। পাশাপাশি, ভারতীয় ভিসা নিয়ে যা কড়াকড়ি ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে চাপানো হয়েছে, তা যত দ্রুত সম্ভব তুলে দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। চিকিৎসার কারণে কলকাতায় আসার জন্য সে দেশের বহু মানুষ অপেক্ষা করে রয়েছেন। এই একটি ব্যাপারে নয়াদিল্লি উদারতা দেখালে সম্পর্ককে এক ধাক্কায় অনেকটাই সহজ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি হয় ভারতের আদানি পাওয়ারের। চুক্তি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পরবর্তী ২৫ বছর ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঢাকাকে সরবরাহ করার কথা ছিল আদানির সংস্থার। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পরে পরিস্থিতি বদলায়। আদানি গোষ্ঠীর দাবি, চুক্তি মেনে এ পর্যন্ত বকেয়া টাকাও মেটায়নি বাংলাদেশ। এই জট ছাড়ানো জরুরি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে সরকার এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়ার অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ। ভবিষ্যতে তিনি অন্য কোনও রাষ্ট্রে (ব্রিটেনের মতো) আশ্রয় নিতে পারেন কি না, সে জন্য সক্রিয় কূটনৈতিক দৌত্যের কথা ভাবতে পারে সাউথ ব্লক— এমনটাই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ডোভালের অফিসকে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সংঘাতবিন্দু সে ক্ষেত্রে অনেকটাই লঘু করে দেওয়া সম্ভব হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Bangladesh Bangladesh Bangladesh Nationalist Party bnp

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy