Advertisement
E-Paper

সন্ত্রাস-সিন্ডিকেটের পরবর্তী লক্ষ্য ভারত, প্রশ্নের মুখে পাকিস্তানও

The next target of India , অষ্টোত্তর শতনামে ডাকলেও ‘লীলা’ তাঁর একই থাকে! আবার অন্য দিক থেকে দেখলে বিস্ফোরণের রিমোট যে নামধারী সংগঠনের হাতেই থাকুন না কেন, নাশকতার রং বদলায় না।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০১৬ ১৯:৪৬
বাংলাদেশের পাশে কলকাতা। ছবি: এপি।

বাংলাদেশের পাশে কলকাতা। ছবি: এপি।

অষ্টোত্তর শতনামে ডাকলেও ‘লীলা’ তাঁর একই থাকে!

আবার অন্য দিক থেকে দেখলে বিস্ফোরণের রিমোট যে নামধারী সংগঠনের হাতেই থাকুন না কেন, নাশকতার রং বদলায় না।

এই প্রাথমিক সূত্রটিকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দুর্গটিকে নিশ্ছিদ্র করার চেষ্টা করছে ভারত। পাশাপাশি, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার গতিপ্রকৃতিকেও বোঝার চেষ্টা চলছে এই সূত্রেই। নর্থ ব্লক সূত্রের অনুমান, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নাশকতার কাণ্ড এটাই প্রমাণ করে যে উপমহাদেশে একটি ছাতার তলায় বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন (তা সে ইসলামিক স্টেট হোক অথবা লস্কর, জামাত-উল-মুজাহিদিন হোক বা তার পিছনে থাক পাক আইএসআই-এর হাত) নিজস্ব সুবিধা এবং স্বার্থ অনুযায়ী হাত মিলিয়ে এগোচ্ছে। বাংলাদেশে একচোট মহড়ার পর এই সন্ত্রাস-সিন্ডিকেটের পরবর্তী লক্ষ্য ভারত।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক কর্তার মতে, ‘‘তার মানে আদৌ এই নয় যে সমস্ত ইসলামি মৌলবাদী সংগঠনগুলি মিলেমিশে গিয়েছে বা প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন চারিত্র, নাশকতার ধরন— সব একাকার হয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটে গিয়েছে। কিন্তু কিছু স্বার্থের অভিন্নতার প্রশ্নে কোনও কোনও অপারেশনে তারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।’’

আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘‘ঢাকার নাশকতা আমাদের সকলকে আবার মনে করিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে লড়তে হবে। সন্ত্রাসবাদকে ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রস্তাব গ্রহণ করার বিষয়টিকেও এ বার জোরালো ধাক্কা দেওয়ার সময় এসেছে।’’ ভারতের পাশাপাশি আমেরিকা তথা পশ্চিমী বিশ্বও একই ভাবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে প্রয়োজনে এফবিআই-এর সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন সচিব জন কেরি। আগামী ৪ অগস্ট খাস ইসলামাবাদেই বসছে সার্কভুক্ত দেশগুলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন। সেখানে ভারত এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও অফিসারদের যৌথ উপস্থিতিতে পাকিস্তানকে জোরালো প্রশ্নের মুখে ফেলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দুই দেশ। স্বাভাবিক ভাবেই ওই বৈঠকের উপর কড়া নজর রাখবে পশ্চিমী বিশ্ব।

কোন কোন সংগঠনের মস্তিষ্ক, অর্থ এবং অন্যান্য ‘লজিস্টিক’ গুলশনে ঘটা সন্ত্রাসে কাজ করেছে সে ব্যাপারে এখনও সুস্পষ্ট কোনও নকশা খুঁজে পায়নি নয়াদিল্লি। তবে কুয়াশা একটু একটু করে কাটছে এমন ইঙ্গিতই আজ দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হুসেন তৌফিক ইমাম ইতিমধ্যেই তদন্তের একটি নতুন দিকের উপর আলো ফেলে বলেছেন, ‘‘পাকিস্তানের আইএসআই এবং জামাতের সংযোগ সর্বজনবিদিত। তারা বর্তমান সরকারকে নাড়িয়ে দিতে চায়।’’ পাশাপাশি, সে দেশে একের পর এক হামলায় আইএস-এর ধাঁচটিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভারতের কাছে। আইএস-এর মুখপত্র ‘দাবিক’ পত্রিকায় তাদের প্রশাসনিক কর্তা আবু ইব্রাহিম আল হামিদ বছরের গোড়াতেই ঘোষণা করে, ‘বাংলাদেশে জিহাদ থমকে গিয়েছে। সেখানে আবার নতুন আশার আলো দেখা দেবে।’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাংলাদেশে জেএমবি তৈরি হওয়ার ঘটনাকেও জিহাদের স্বপ্নপূরণের ধাপ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

আজ অবশ্য সরকারি ভাবে গুলশনের নাশকতার দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছে ইসলামাবাদ। পাক বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘প্ররোচনামূলক’ হিসাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানেই না থেমে কার্যত ভারতকে দুষে পাকিস্তান একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এই ধরনের খবর ভারতীয় মিডিয়াই প্রচার করছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তবে পাকিস্তানের এই বিষোদ্গার সত্ত্বেও আইএস-এর সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনী তথা আইএসআই-এর সংযোগের বাস্তবতাটিকে কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে খবর, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের একটি বড় সংখ্যক জঙ্গি সিরিয়া এবং ইরাকে পাড়ি দিয়েছে জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য। আর এই সংযোগের পিছনে একটি বড় ভূমিকা রয়েছে সৌদি আরবের, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সিরিয়ার সরকার বিরোধী জিহাদিদের গোপনে অর্থসাহায্যে এবং অন্যান্য মদত দিয়ে এসেছে সৌদি। নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে তারা এই কাজে পাক প্রশাসন তথা আইসআই-কেও কাজে লাগিয়েছে বলে অনুমান। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে পাক সেনা তথা আইএসআই-কে কিনে নেওয়া হয়। সিরিয়ার জঙ্গিদের অস্ত্র সাহায্য করার পিছনে এর পর থেকে পাকিস্তানেরও ভূমিকা প্রশ্নের উর্ধ্বে নয়।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের বিরুদ্ধে হামলা শানানোর জন্য তাই আইএসআই এবং আইএস যদি নিজেদের মধ্যে কোনও সমঝোতা করে নেয়, তাতেও আশ্চর্য হচ্ছে না নয়াদিল্লি। পাক গুপ্তচর সংস্থা এটাও নজরে রেখেছে যে, আইএস-এর শীর্ষপদে বসার পর একাধিক বার জনসভায় ভারতের নাম করেছিল আবু বকর আল বাগদাদি। তার বক্তব্য, অন্যান্য অনেক দেশের মতো ভারতেও মুসলিমরা সুরক্ষিত নন। কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা সাধারণ মানুষের উপর ‘অত্যাচার’ করছে, এমন অভিযোগও এনেছিল বাগদাদি।

বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, ভারত অথবা বাংলাদেশের উপর হামলা যে দেশ বা সংগঠনই ঘটাতে চাক না কেন, পাকিস্তানের কৌশলগত সমর্থন বা সাহায্য না নিয়ে তা করা কার্যত অসম্ভব। তার কারণ পাকিস্তানের ভূকৌশলগত অবস্থান এবং সে দেশে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদের সংস্কৃতি। লস্কর বা আল কায়দা বরাবরই ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় নাশকতার জন্য আইএসআই-কে কাজে লাগিয়ে এসেছে। বিনিময়ে তাদের ‘কড়ি’ বুঝে নিয়েছে পাক সেনা তথা আইএসআই। এ ক্ষেত্রেও আইএস-কে সাহায্য করার বিনিময়ে পাক সেনা দু’টি বিষয় চেয়ে নিতে পারে তাদের কাছ থেকে। এক, পাকিস্তানের ভূখণ্ডকে (বিশেষ করে বালুচিস্তান) তাদের নাশকতা থেকে রেহাই দেবে আইএস। দুই, পাকিস্তানের ভারত-বিরোধিতা এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করার প্রশ্নে আইএস তাদের নাশকতাকে ক্ষুরধার করবে। বিদেশমন্ত্রকের এক কর্তার মন্তব্য: ‘‘ওসামা বিন লাদেন এবং তালিবান প্রধান মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর তালিবান এবং আল কায়দার নেতৃত্ব কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে রক্তপাত ঘটানার পর তাদের মূল লক্ষ্যবিন্দু আপাতত আফগানিস্তানে ছায়াযুদ্ধ। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস পাচারের প্রশ্নে কিছুটা তারতম্য আসতে বাধ্য। এই আপাত শূন্যস্থানের উপর নজর রেখে এগোচ্ছে আইএস।’’

আরও পড়ুন

ঘুমোও ইশরাত আপা, কাঁদো জন্মভূমি

India Pakistan terror syndicate
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy