চৈত্র শেষলগ্নে। দিন দুয়েক পর থেকেই শুরু হবে বৈশাখ। কিন্তু তার আগে থেকেই ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু এ রাজ্য নয়, দেশের কয়েকটি রাজ্যেও একই ছবি। তবে তার আগেই বর্ষা নিয়ে খারাপ খবর শোনাল মৌসম ভবন। সোমবার তারা জানিয়েছে, এ বার বর্ষাকালে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে।
মৌসম ভবনের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দীর্ঘকালীন গড় বৃষ্টিপাতের (১৯৭১ সাল থেকে ২০২০ সাল) নিরিখে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৮৭ সেন্টিমিটার। শতাংশের হিসাবে ওই পরিমাণ ধরলে মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, এ বার বর্ষাকালে ৯২ শতাংশ বৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, মৌসম ভবন যে মডেলের ভিত্তিতে বৃষ্টির পরিমাণ বিচার করে, তা পাঁচ শতাংশ কম বা বেশি হতে পারে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর— মূলত এই সময়টাকে ভারতে বর্ষাকাল হিসাবে ধরা হয়। সেই বর্ষায় কেমন বৃষ্টি হবে, এপ্রিলেই তার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কম বৃষ্টির কথা জানাল মৌসম ভবন। কী পূর্বাভাস পশ্চিমবঙ্গের জন্য? মৌসম ভবন জানিয়েছে, আপাতত এ বারের বর্ষায় পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে রাজ্যের কিছু জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিক হতে পারে। রাজ্যের পশ্চিম অংশে এবং উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জায়গা বাদ দিয়ে গোটা রাজ্যেই এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনা।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গের মতোই গোটা দেশের ছবিও প্রায় একই। উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি জায়গায় স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি হতে পারে বর্ষাকালে। কোথাও কোথাও স্বাভাবিক। তবে মোটের উপর গোটা দেশে বৃষ্টির পরিমাণ থাকবে স্বাভাবিকের থেকে কম। কেন এমন হবে? মৌসম ভবন সূত্রে খবর, বর্ষায় বৃষ্টির পরিমাণ কম হওয়ার নেপথ্যে এল নিনো। জুনে ভারতে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেই কারণে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আশার আলোও শুনিয়েছে মৌসম ভবন। বর্ষার দ্বিতীয় ভাগে ভারত মহাসাগরে ‘পজ়িটিভ ইন্ডিয়ান ওশন ডাইপোল’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তার জেরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে তা নিশ্চিত করে এখনই বলতে পারছে না মৌসম ভবন।