দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স (রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিক)-কে বুধবারই তলব করেছিল কেন্দ্র। এ বার হরমুজ়ে হামলা নিয়ে আরও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানাল নয়াদিল্লি। হরমুজ়ের কাছে তিন ভারতীয় নাবিক যে মার্কিন নৌসেনার হামলাই নিহত হয়েছেন, তা-ও সরকারি ভাবে ঘোষণা করে দিল ভারত সরকার।
মার্কিন দূতাবাসের আধিকারিককে ডেকে পাঠিয়ে কী কী বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তা তুলে ধরেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাংবাদিক বৈঠকে রণধীর বলেন, “আমাদের লোকেদের জীবন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।” হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতে আন্তর্জাতিক বিধি মেনে জাহাজগুলি অবাধে চলাচল করতে পারে, সে কথাও মার্কিন দূতাবাসের আধিকারিককে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত হরমুজ়ের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর মিলেছে। তার মধ্যে অন্তত দু’টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মঙ্গলবারের এক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়ে যান। বৃহস্পতিবার কেন্দ্র জানায়, তিন জনই নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় নাবিকদের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে রণধীর বলেন, “পালাউ-এর পতাকাবাহী ‘এমটি সেটেবেলো’তে হামলার ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। মার্কিন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিলাম। ক্রমাগত ঘটতে থাকা এই হামলার বিষয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা (মার্কিন কর্তৃপক্ষকে) জানিয়েছি। পাশাপাশি তীব্র প্রতিবাদও জানিয়েছি।” হরমুজ় প্রণালীতে এই হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার পক্ষে সওয়াল করে ভারত সরকার। অতীতেও বার বার নয়াদিল্লি বলে এসেছে, আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই পশ্চিম এশিয়ার সমস্যার সমাধান হতে পারে। বুধবার মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে ফের সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত সরকার।
আমেরিকার হামলাতেই যে তিন ভারতীয় নিহত হয়েছেন, তা আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। এ বার সরকারি ভাবে তা ঘোষণা করল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বললেন, “ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীই হামলাগুলি চালিয়েছে।” দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নিরিখে ভারতের এই বিবৃতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আক্রান্ত ওই জাহাজগুলির মধ্যে কোনওটিই যে ভারতীয় জাহাজ নয়, তা-ও স্পষ্ট করে দেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। রণধীর জানান, ওই জাহাজগুলির সবগুলিই ছিল বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ।
গত মঙ্গলবার ওমান উপকূলে মার্কিন বাহিনীর হামলার মুখে পড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘সেটেবেলো’। সেটি পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজ। তাতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও তিন জনের খোঁজ মিলছিল না। শেষে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল জানান, ওই তিন নাবিকই নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, যে দিন ‘সেটেবেলো’তে হামলা হয়, সে দিনই ওমান উপকূলে ‘ম্যারিভেক্স’ নামে একটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। প্রসঙ্গত, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল পালাউ। সেই পালাউয়ের জাহাজ ‘ম্যারিভেক্স’ হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। আর সেই সময়ই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে ওই জাহাজের উপর।
বৃহস্পতিবার আরও একটি জাহাজে হামলার খবর মিলেছে। সেটি ওমানের সিনাস বন্দরের কাছে ছিল। ওমানে ভারতীয় দূতাবাস থেকে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি জাহাজে ‘হামলা’ হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এমনই একটি সময়ে এ বার মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।