ওমান উপকূলে ডুবন্ত একটি জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হল ভারতের ১৪ জন নাবিককে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই উদ্ধারকাজে ওমানের স্থানীয় প্রশাসনকে সাহায্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ১৪ জনই আপাতত নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার সকালে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজটি ওমান উপকূল সংলগ্ন রাস অল হাড থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যাচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই ওমান উপকূল কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের নৌবাহিনীকে সতর্ক করে মার্কিন নৌসেনা। তার পরেই লাইফবোট নামিয়ে ওই জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়। এখনও ওই এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধারকাজ চলার কথা জানিয়েছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও।
ওমানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, ওই জাহাজের নাম ‘বিরাট ১’। বাণিজ্যিক ওই জাহাজটির একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। তার পরেই ওই জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে লাইফবোট এবং নৌকায় চাপিয়ে উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং সেই হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু ঘিরে আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। ঠিকএমন সময়ে সেই ওমান উপকূলে ডুবন্ত ভারতীয় জাহাজ থেকে নাগরিকদের উদ্ধারে এগিয়ে এল মার্কিন নৌবাহিনী।
গত সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। গিনি-বিসৌয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘জলবীর’-এ এই হামলা হয়। তার আগে ১০ জুন এমটি সেটেবেলো নামে জাহাজে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এই হামলার কথা স্বীকারও করা হয়। ওই দিন ‘ম্যারিভেক্স’ নামে আরও একটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। সেই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক নাবিক ছিলেন। যদিও সকলকেই উদ্ধার করেছিল ওমান প্রশাসন।