Advertisement
E-Paper

চাল রফতানিতে ফের শীর্ষে ভারত! অনেক পিছিয়ে পাকিস্তান, টানাপড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশে বেড়েছে চাল পাঠানো

সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-কে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্বে যা চাল রফতানি হয়, তার ১৯.৪ শতাংশ চালই যায় ভারত থেকে। রফতানির তালিকায় ভারতের পরে রয়েছে তিন দেশ তাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং পাকিস্তান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪০
India\\\\\\\'s rice exports surge to near record in 2025

চাল রফতানিতে শীর্ষে ভারত। — ফাইল চিত্র।

বাসমতি হোক বা সেদ্ধ চাল— গত বছরে বিশ্বের নানা প্রান্তে রেকর্ড পরিমাণ রফতানি করেছে ভারত। নিষেধা়জ্ঞা তুলতেই চাল রফতানি হু হু করে বেড়েছে। দিন কয়েক আগেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনকারী দেশের তকমা পেয়েছে ভারত। এ বার বিশ্বে চাল রফতানিতেও শীর্ষস্থান ধরে রাখল তারা। উল্লেখযোগ্য বিষয়, গত এক বছরে বাংলাদেশে চাল রফতানির পরিমাণও বেড়েছে।

সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-কে এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশ্বে যা চাল রফতানি হয়, তার ১৯.৪ শতাংশই যায় ভারত থেকে। রফতানির তালিকায় ভারতের পরে রয়েছে তিন দেশ তাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং পাকিস্তান। তবে তাদের মিলিত রফতানির পরিমাণও ভারতের থেকে কম। ওই আধিকারিক জানান, গত বছর দু’কোটি ১৫ লক্ষ টন চাল বিদেশে পাঠানো হয়। বাসমতি চালের রফতানি বেড়েছে আট শতাংশ। তবে সেদ্ধ চালের রফতানি বেশি। ভারত ২৫ শতাংশ (এক কোটি টনের বেশি) সেদ্ধ চাল রফতানি করে।

চাল রফতানির পরিমাণে ভারত শীর্ষে কেন? নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিকের দাবি, দামই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে! ভারত ন্যূনতম দামে বিশ্ব বাজারে চাল রফতানি করে। ‘দরিদ্র’ দেশগুলির কাছে এই চাল সহজলভ্য করে তুলেছে। গত বছরে বাংলাদেশ, বেনিন, ক্যামেরুন, আইভেরি কোস্টে সেদ্ধ চাল রফতানি বাড়িয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রিটেনের মতো দেশগুলিও আগের তুলনায় ভারতের থেকে বেশি চাল কিনছে।

যদিও ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে চাল রফতানি বড় ধাক্কা খায় ভারত। সে সময় চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সব চালের রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কারণ, সে সময় ভারতের বাজারে হু হু করে চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। তাই দেশে জোগান বাড়িয়ে, রফতানি কমিয়ে চালের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে গত বছর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ভারত। তার পর থেকেই চাল রফতানি আবার পুরনো ছন্দে ফিরেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে ভারত সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি করেছিল (দু’কোটি ২৩ লক্ষ টনের বেশি)।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, বাংলাদেশে চাল রফতানি। সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ অগস্টে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেক ইস্তফা দিয়ে ভারতে চলে আসেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কে চাপানউতর চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তৃতায় উঠে এসেছে ভারতবিরোধী মন্তব্য। মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে নিয়েও বিতর্ক হয়। তবে এই টানাপড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশে চাল রফতানি অব্যাহত রেখেছে ভারত।

গত রবিবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ বলেছিলেন, ‘‘যে ভারত এক সময়ে খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসাবে পরিচয় ছিল, সেই দেশই এখন বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ভারত চাল উৎপাদনে চিনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। চাল উৎপাদক দেশ হিসাবে বিশ্বের প্রথম স্থানে উঠে এসেছে ভারত।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, চিন বর্তমানে সা়ড়ে ১৪ কোটি টন চাল উৎপাদন করে। ভারত সেখানে ১৫ কোটি টন চাল উৎপাদন করছে। এটি ভারতের এক ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসাবে বর্ণনা করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত এখন বিদেশের বাজারেও চাল সরবরাহ করছে।’’ তার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রকাশ্যে এল এই পরিসংখ্যান।

Rice Export Narendra Modi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy