সেনাকর্তার পরিচয়ে দু’জন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বলেছিলেন, এক গোপন অভিযানে যোগ দিতে হবে। তা হলে পুরানো মামলা থেকে তাঁর নাম মুছে দেওয়া হবে। এমনটাই নাকি ‘অফার’ দেওয়া হয়েছিল আইএস জঙ্গি-যোগে ধৃত এক অভিযুক্তকে। আদালতে এমনটাই জানিয়েছেন আরিব মজিদ নামে ওই অভিযুক্ত। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং ঠাণের কল্যাণে বাজারপেট থানার পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। এনআইএ এবং পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন বিচারক।
২০১৪ সালে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছিলেন কল্যাণের বাসিন্দা আরিব। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। ২০২১ সালে বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশে জামিন পান তিনি। এখন আরিবের দাবি, গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাড়িতে দু’জন গিয়েছিলেন। এক জন পুরুষ, অপর জন মহিলা। কাউকেই তিনি বা তাঁর স্ত্রী চেনেন না। তিনি তখন বাড়িতেও ছিলেন না। স্ত্রী ছিলেন বাড়িতে। স্ত্রী-ই তাঁকে ফোন করে জানান দুই আগন্তুকের কথা।
আরিবের বক্তব্য, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী উভয়েই ওই দুই আগন্তুককে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আগন্তুক মহিলা ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। নিজেকে সেনাবাহিনীর আধিকারিক বলে পরিচয় দেন ওই মহিলা। জানান, তাঁর সঙ্গে দিল্লি থেকে কর্নেল পদমর্যাদার এক সিনিয়র আধিকারিকও রয়েছেন। আদালতে আরিব জানান, ফোনে তাঁকে বলা হয়, একটি গোপন অভিযানে তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন। এর বিনিময়ে বর্তমান মামলা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা হবে। কিন্তু আরিব তাতে রাজি হননি। আদালতে তিনি জানান, ওই ঘটনার পরে তিনি হেল্পলাইন নম্বর ১১২-তে ফোন করেছিলেন। এনআইএ-র কন্ট্রোল রুমেও ফোন করে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন বলে দাবি আরিবের।
আরও পড়ুন:
এ অবস্থায় মুম্বইয়ের বিশেষ এনআইএ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। নিজের বক্তব্য জানিয়ে আদালতে একটি মামলাও করেছেন। বুধবার সেই মামলার শুনানি ছিল আদালতে। সেখানে তিনি সওয়াল করেন, তিনি কোনও বেআইনি সুবিধা চান না। তিনি চান যাতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ২০১৪ সালের মামলাটির যেন আইনানুগ উপায়ে সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। আদালতও জানিয়েছে, এই ঘটনার ক্ষেত্রে ছদ্মবেশে এমন সন্দেহজনক গতিবিধি এবং প্রলোভনের চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় স্থানীয় পুলিশ এবং এনআইএ-র থেকে মতামত জানতে চেয়েছে আদালত।