সাংবাদিক বৈঠকে এসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নেপথ্যে থাকা নায়কদের কথা জানিয়েছিলেন বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল একে ভারতী। এই সূত্রেই তিনি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের (আইএসিসিএস) কথা। সেনা সূত্রেই জানা যায়, গোটা সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ওই কন্ট্রোল সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা। ওই সিস্টেম যে কক্ষ থেকে পরিচালিত হয়েছিল, সোমবার কেন্দ্রের তরফে তারই একটি ছবি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, পিছনে বৃহদাকার এলইডি স্ক্রিনে নানা ভৌগোলিক হিসাবনিকাশ। তার সামনে মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে সেনার কয়েক জন আধিকারিক। তাঁদের পরিচয় যাতে প্রকাশ্যে না-চলে আসে, সেই জন্যই প্রত্যেকের মুখ মাস্কের আড়ালে।
সেনার একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে সর্বদা সতর্ক এবং সজাগ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই আইএসিসিএস। বায়ুসেনার প্রতিটি কার্যকলাপে নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ চালায় এটি। এই আইএসিসিএস-এর তিনটি স্তর বা বিভাগ রয়েছে। একটি বিভাগ স্থল, জল এবং নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখে। আর একটি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের রেডারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। তার পর সেই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টারে।
২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পর্যটক। ভারত পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুললেও তারা অস্বীকার করে। এর পরেই গত মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে জঙ্গিদমন অভিযান শুরু করে ভারত। সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ন’টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান দাবি করে, ভারতের অভিযানে তাদের সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টই জানিয়ে দেয়, ওই অভিযান শুধুই পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তাতে নিহত হয়েছে জঙ্গিরা। সেই জঙ্গিদের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিল পাক সেনা। সেই ছবিও তুলে ধরেছে ভারত।
ভারতের সেই অভিযানের পরেই সীমান্তবর্তী এলাকাকে নিশানা করে গত বুধবার রাত থেকে ড্রোন হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। পাশাপাশি সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে গোলাগুলি চালাতে থাকে ইসলামাবাদ। ভারত সেই সব হামলা ব্যর্থ করে দেয়। দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। শনিবার বিকেলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ভারত এবং পাকিস্তান।
অন্য দিকে, মঙ্গলবার ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেনা সর্বাধিনায়ক (সিডিএস), নৌবাহিনীর প্রধান, স্থলবাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
- সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
-
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি, জানিয়েছে আমেরিকা: পাক বিদেশমন্ত্রী
-
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই, অগ্নিবীরদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে, ৪ বছরের মেয়াদ বাড়বে? কী পরিবর্তন হতে পারে? চর্চা
-
ভারতের হামলায় কি গুঁড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকায় তৈরি পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬? এক বাক্যে জবাব মার্কিন বিদেশ দফতরের
-
৩ মাস ধরে পালানোর চেষ্টা, শেষে চিনা যন্ত্র চালু করতেই গোয়েন্দাদের জালে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা
-
গোপন সুড়ঙ্গের মুখ কৌশলে বন্ধ করে ‘ফাঁদ’ পাতে সেনা? কেন তিন মাসেও কাশ্মীর ছাড়তে পারেনি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা