রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগে ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। কেউ স্কুলশিক্ষক, কেউ গাড়ির মেরামতকর্মী, কেউ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী, তো কেউ আবার ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধানের ঘনিষ্ঠ। তাঁদের বেশির ভাগকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করেছিল একটি আউটসোর্সিং (যার সঙ্গে মন্দিরের সরাসরি যোগ নেই) সংস্থা। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা প্রণামীর টাকা সরাচ্ছিলেন। কী ভাবে চলত ‘প্রণামী চুরি’, ধৃতদের জেরা করে সেই তথ্যও উঠে এসেছে।
ধৃতদের মধ্যে অন্যতম অবিনাশ শুক্ল। তিনি এক প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা গোনার সময়ে নগদের হিসাব মিলিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। অবিনাশের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত ২০ লক্ষেরও বেশি টাকা উদ্ধার করেছে। পাওয়া গিয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা এবং গয়নাও। আট অভিযুক্তের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়েছে তাঁর কাছ থেকেই।
পিটিআই অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে প্রণামী চুরির অভিযোগ মেনে নিয়েছেন অবিনাশ। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ‘ব্লাইন্ড স্পটের’ (সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় থাকা জায়গার যে অংশটি ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে না) সুযোগ নিয়ে প্রণামীর টাকা সরানো হত। প্রাথমিক ভাবে সেই নগদ অর্থ লুকিয়ে রাখা হত শৌচালয়ে। তার পর সুযোগ বুঝে সেই টাকা সরিয়ে নিতেন তাঁরা।
তদন্তকারী দল সূত্রে ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ জানাচ্ছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আট অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচ জনের আচরণ সন্দেহজনক ঠেকেছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন অভিযুক্ত প্রথমে পকেটে এবং মোজার মধ্যে নগদ টাকা লুকিয়ে রাখতেন। তার পরে তা মন্দিরের শৌচালয়ে সাময়িক ভাবে লুকিয়ে রাখতেন। পরে অল্প অল্প করে সেখান থেকে টাকা সরিয়ে নিতেন তাঁরা।
ধৃত অবিনাশ গত বেশ কয়েক বছর ধরে অযোধ্যায় এক যোগব্যায়ামকেন্দ্রে থাকতে শুরু করেছিলেন। অপর অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রও প্রণামী গোনার জন্য চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পিটিআই জানাচ্ছে, তিনি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করতেন। অথচ অনুকল্পের যে বাড়িটির সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা, সেটির দাম প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। গ্রামে তাঁর একটি ফার্ম হাউজ়ও আছে। রয়েছে বাইক। একটি চার চাকার গাড়িও বুক করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অনুকল্পের যা আয় ছিল, তার তুলনায় এই সম্পত্তি অনেক বেশি। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ঠিকানায় হানা দিয়ে প্রায় ১৬.৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়া রামন্দিরের ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য অনিল মিশ্রের সঙ্গে অনুকল্পের পারিবারিক যোগসূত্রও রয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে। অনুকল্পের এক আত্মীয় লবকুশ মিশ্রও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। লবকুশ আগে গাড়ির মেরামতকর্মী হিসাবে কাজ করতেন। মাসে আয় হত প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। অথচ তাঁর কাছ থেকে পুলিশ প্রায় ১৪.২৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। প্রণামীর টাকা সরানোর কাজে তিনি সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিনু যাদবও। তিনি এই চক্রের অন্যতম ‘মাথা’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। রামমন্দিরের ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক ছিলেন তিনি। গ্রেফতার হয়েছেন সুভাষচন্দ্র শ্রীবাস্তব নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মীও। প্রণামীর অর্থ গোনার কাজ তদারকির দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। অভিযোগ, ‘প্রণামী চুরির’ কাজে সাহায্য করেছিলেন তিনিও।