E-Paper

তালিবানি আইনের সমালোচনায় জাভেদ

তালিবান সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজ়াদার স্বাক্ষরিত নতুন বিধিতে স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিক ‘শাস্তি’ দেওয়া পুরুষের অধিকার, যাঁহাতক না সেই মারধরের ফলে হাড় ভেঙে যাচ্ছে বা শরীরে কোনও গভীর ক্ষত হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৯
জাভেদ আখতার।

জাভেদ আখতার। — ফাইল চিত্র।

আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন সম্প্রতি একটি নতুন ফৌজদারি দণ্ডবিধি কার্যকর করেছে। তাতে গার্হস্থ্য হিংসাকে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের অভিমত। আজ গীতিকার ও লেখক জাভেদ আখতার তালিবানের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা করে লিখেছেন যে, ধর্মের নামে স্ত্রীকে মারধর বৈধ করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি ভারতের মুফতি ও আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যে হেতু এই বর্বরতা ধর্মের দোহাই দিয়ে করা হচ্ছে, তাই তাঁদের উচিত নিঃশর্ত ভাবে এর প্রতিবাদ জানানো। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সমীকরণ যা-ই হোক না কেন, এই ‘জঘন্য’ শক্তিকে কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্যতা বা সম্মান দেওয়া উচিত নয়।

তালিবান সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজ়াদার স্বাক্ষরিত ওই নতুন বিধিতে স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিক ‘শাস্তি’ দেওয়া পুরুষের অধিকার, যাঁহাতক না সেই মারধরের ফলে হাড় ভেঙে যাচ্ছে বা শরীরে কোনও গভীর ক্ষত হচ্ছে। কোনও নারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তাঁর উপরে ‘অত্যধিক শক্তি’ প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে হাড় ভেঙেছে বা খোলা ক্ষত তৈরি হয়েছে, তবেই কেবল আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকবে। তবে সেই অপরাধ প্রমাণিত হলেও স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দিনের কারাদণ্ড। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এতে নিপীড়িত মহিলাদের বিচার পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নতুন এই আইনে বিবাহিত মেয়েদের চলাফেরার উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনও মহিলা স্বামীর অনুমতি ছাড়া বা বার বার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গেলে তাঁর তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। নির্যাতনের শিকার হয়ে কোনও মহিলা যদি আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং স্বামী ফেরত চাওয়ার পরে ফিরতে অস্বীকার করেন, সে ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তি হবে। ২০০৯ সালে পাস হওয়া নারী নির্যাতন নির্মূল আইনটিও বাতিল করেছেন তালিবান কর্তৃপক্ষ।

তালিবান এই দণ্ডবিধির মাধ্যমে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে— উলেমা, অভিজাত, সাধারণ মানুষ ও নিঃস্ব। একই অপরাধের জন্য শ্রেণির ভিত্তিতে সাজার তারতম্য হবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই নতুন বিধিকে ‘লিঙ্গ বর্ণবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এই আইনের ফলে আফগান নারীরা কার্যত তাদের নিজেদের ঘরেই বন্দি এবং সুরক্ষাহীন হয়ে পড়লেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Javed Akhtar taliban

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy