প্রাক্তন প্রেমিকের উপর ‘প্রতিশোধ’ নিতে তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীকে চক্রান্ত করে এইচআইভি-র ইঞ্জেকশন দেওয়ালেন তরুণী এবং তাঁর তিন সহযোগী। ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের। ইতিমধ্যেই ওই তরুণী এবং তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হলেন বোয়া বসুন্ধরা, কোঙ্গে জ্যোতি এবং তাঁর দুই সন্তান। শনিবার এই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কোঙ্গে জ্যোতি একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। তাঁর সহযোগিতায় এইচআইভি আক্রান্ত এক মহিলার রক্ত জোগাড় করেছিলেন বসুন্ধরা। তার পর সেই রক্তই প্রেমিকের স্ত্রীর শরীরে ঢুকিয়ে দেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই পরিকল্পনা সফল করতে প্রেমিকের স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ভাবে পথদুর্ঘটনার চক্রান্ত করেন বসুন্ধরা। প্রেমিকের স্ত্রী পরিকল্পনামাফিক দুর্ঘটনার কবলে পড়তেই সেই সুযোগে তাঁকে সহযোগিতার ছলে এইচআইভি-র ইঞ্জেকশন দেন বসুন্ধরা। এ কাজে বসুন্ধরাকে সাহায্য করেন নার্স জ্যোতি। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে এইচআইভি আক্রান্তের রক্ত সংগ্রহ করেন অভিযুক্তেরা। তার পর সেটিকে সংরক্ষিত করে রাখেন। কী ভাবে প্রেমিকের স্ত্রীর শরীরে সেই রক্ত ঢুকিয়ে দেওয়া যায় তার পরিকল্পনা করেন বসুন্ধরা।
গত ৯ জানুয়ারি বসুন্ধরার প্রাক্তন প্রেমিকের চিকিৎসক স্ত্রী হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন স্কুটারে। সেই সময় দুই ব্যক্তি তাঁর স্কুটারের সামনে বাইক নিয়ে চলে আসেন। চিকিৎসক পড়ে গিয়ে চোট পান। সেই সুযোগে অভিযুক্তেরা সাহায্যের অছিলায় এগিয়ে আসেন। চিকিৎসককে অটোতে তোলার সময় বসুন্ধরা তাঁর শরীরে এইচআইভি-র ইঞ্জেকশন দিয়ে পালিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে কিছু একটা হয়েছে এটা বুঝতে পেরেই স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তাঁর স্বামীও এক জন চিকিৎসক। এর পরই তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।