রাজা গোপ। বয়স এখন ২২। ঝাড়খণ্ডের চাঁইবাসার যুবক। ২০১১ সালে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। ১৪ বছর পর ফিরে এলেন বাড়িতে। এক অসরকারি সংস্থার উদ্যোগে পরিবারকে ফিরে পেলেন রাজা।
জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে বাবার সঙ্গে ইটভাটার কাজে আসছিলেন রাজা। তাঁদের গন্তব্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া। কিন্তু ভিড়ের কারণে বাবার হাত ছেড়ে যায় তাঁর। শেষে হাওড়ায় আসার ট্রেনে না উঠে ভুল করে কেরলে যাওয়ার ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স মাত্র ছয়। কেরলের এর্নাকুলামে পৌঁছে যান রাজা। স্টেশনে নেমে ইতস্তত ভাবে ঘোরাঘুরি করতে থাকায় সন্দেহ হয় রেলপুলিশের। তাঁর নাম, পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু সে ঠিক মতো কিছুই মনে করতে পারছিল না। তখন পুলিশ একটি অসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে, রাজার ঠাঁই হয় একটি হোমে।
আরও পড়ুন:
তার পর থেকে রাজার পরিবারের সন্ধান চলতে থাকে। হোমেই শৈশব কেটে যায় রাজার। সম্প্রতি কেরল শিশুকল্যাণ কমিটির তরফে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই কমিটিকে রাজার কথা জানানো হয় অসরকারি সংস্থার তরফে। শুধু তারা জানতে পেরেছিল চাঁইবাসায় রাজার বাড়ি। কেরল শিশুকল্যাণ কমিটির তরফে সেই সূত্র ধরে নিখোঁজ শিশুদের নিয়ে কাজ করা ঝাড়খণ্ডের একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাজার ছবি এবং ভিডিয়ো পাঠানো হয়। সেই ছবি এবং ভিডিয়ো চাঁইবাসায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সমাজমাধ্যমের সাহায্যও নেওয়া হয়। আর সেই সূত্র ধরেই পশ্চিম সিংভূমের হরিমারা গ্রামে গোপ পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। তার পরই রাজাকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রাজার বাবা চার আগেই মারা গিয়েছেন। তাঁর মা আরও দুই সন্তানকে নিয়ে দিনমজুরের কাজ করেন। বড় সন্তান বেঁচে আছে, এই খবর পাওয়ার পরই গোপ আন্দের জোয়ারে ভাসে গোপ পরিবার। রাজার মা বলেন, ‘‘ছেলে যে বেঁচে আছে এটাই বড় পাওনা। স্বামী যদি বেঁচে থাকতেন তা হলে আরও খুশি হতেন।’’