দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হল পড়শি দেশের যুবনেতাকে। ধৃত ওই বাংলাদেশির নাম আহমেদ রেজা হাসান মাহদী। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। জানা যাচ্ছে, তিনি ভারত হয়ে ইউরোপের কোনও দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়েই ধরা পড়েন দিল্লি বিমানবন্দরে। তবে কী কারণে তাঁকে ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মাহদী বাংলাদেশের হবিগঞ্জের বাসিন্দা। হাসিনা সরকারের পতনের দিন (২০২৪ সালের ৫ অগস্ট) বাংলাদেশে এক পুলিশকর্মীকেও খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। জানা যাচ্ছে, বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরের শুল্ক আধিকারিকদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁকে আটক করার পরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে মাহদী দাবি করেন, তাঁকে প্রায় ৪০ মিনিট আটক করে রাখা হয়েছিল। তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওই যুবকের।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মাহদী নিজেই দাবি করেছিলেন, তিনি পুলিশকর্মীকে হত্যা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ওই গ্রেফতারির প্রতিবাদে ঢাকা এবং বাংলাদেশের অন্য বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গ্রেফতারির পরের দিনই হবিগঞ্জের আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
আরও পড়ুন:
বুধবার পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পরে ফেসবুক লাইভে মাহদী বলেন, “আমি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বলছি। আমার সঙ্গে এখানে অনেকগুলি অকারেন্স (ঘটনা) ঘটেছে, তা আমাকে বাংলাদেশে এসে সংবাদ সম্মেলন করে বলতে হবে। এখানে আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আমার সঙ্গে বাজে অ্যাপ্রোচ (আচরণ) করা হয়েছে। তারা আমাকে জেলে দিতে চেয়েছিল।” বাংলাদেশে ফিরে তিনি ‘অ্যাকশন’ নেবেন এমন দাবিও করেন।
বাংলাদেশের ওই যুবনেতা কী কারণে দিল্লিতে এসেছিলেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ‘প্রথম আলো’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সূত্রে জানাচ্ছে, কোনও এক ইউরোপীয় দেশে যেতে চান মাহদী। সেই দেশের ভিসাকেন্দ্র ভারতে। ওই ভিসার কাজেই দিল্লিতে গিয়েছিলেন মাহদী।