প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ইজ়রায়েলের একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনায় ভারতও। দু’দিন আগেই ইজ়রায়েলের ভূমিকার সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল ৮৫টি দেশ। সেই তালিকায় ভারত ছিল না। পরে আরও কয়েকটি দেশ ওই বিবৃতিকে সমর্থন জানায়। শতাধিক দেশের ওই তালিকায় রয়েছে ভারতও। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনি দূত রিয়াদ মনসুর বুধবার বেশি রাতের দিকে (ভারতীয় সময়ে) সমাজমাধ্যমে এমনটাই দাবি করেছেন। যদিও দিল্লি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
যৌথ বিবৃতিতে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ইজ়রায়েলের ভূমিকার নিন্দা জানানো হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, “ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ভূখণ্ডে অবৈধ সম্প্রসারণের জন্য ইজ়রায়েলের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি বন্ধ হওয়া উচিত।” মূল বিবৃতিটি প্রকাশ্যে আসে গত মঙ্গলবার। তাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, চিন, রাশিয়া, ব্রাজ়িল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আরব লীগ-সহ মোট ৮৫টি দেশের সমর্থন ছিল। তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ভারত ছিল না।
বুধবার বেশি রাতের দিকে আরও কিছু দেশের সমর্থন-সহ ওই বিবৃতিটি ফের প্রকাশিত হয় রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনি দূতের সমাজমাধ্যম পাতা ‘স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’-এ। শতাধিক দেশের সমর্থন-সহ ওই যৌথ বিবৃতিতে ভারতের নামও উল্লেখ রয়েছে। বৃহস্পতিবারই আমেরিকার নেতৃত্বে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠক রয়েছে ওয়াশিংটনে। রাষ্ট্রপুঞ্জেও প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গে বৈঠক রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই যৌথ বিবৃতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, প্যালেস্টাইন বর্তমানে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের সকল দেশ এখনও প্যালেস্টাইনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রায় ১৫০টি দেশ তাদের এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই কারণে বর্তমানে ‘অবজ়ার্ভার স্টেট’ হিসাবে রাষ্ট্রপুঞ্জে রয়েছে প্যালেস্টাইন। তারা রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন আলোচনাসভাতেও অংশগ্রহণ করে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের প্রস্তাব পাশ হয় রাষ্ট্রপুঞ্জে। ওই প্রস্তাবের সমর্থনে ভারত-সহ ১৪২টি দেশ ভোট দেয়। ১৯৩ দেশ নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই সাধারণ সভার ভোটাভুটিতে ইজ়রায়েল-সহ ১০টি দেশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। রাষ্ট্রপুঞ্জে গৃহীত ওই প্রস্তাবে গাজ়াকে পুরোপুরি হামাসের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।