জাহাজে দিনের পর দিন সফর। আর সেই সফরের সময়ে নানা ধরনের ‘সি সিকনেস’ কাবু করত নাবিকদের। শরীর ভাল রাখার জন্য তাঁরা জাহাজের বাঙ্কের বদলে শুতেন মোটা কাপড়ের তৈরি বিশেষ এক বিছানায়। সেই বিছানাই আজকের হ্যামক। যার ইতিহাস কমপক্ষে আড়াই হাজার বছরের পুরনো।
নাম হ্যামক ছিল না। দেখতেও ছিল না এ যুগের হ্যামকের মতো শৌখিন। ক্যানভাসের মোটা কাপড়ের সঙ্গে দড়ি বেঁধে তৈরি হ্যামকে নাবিকরা শুতেন তা জাহাজের দুলুনির সঙ্গে তাল দিয়ে দুলত বলে। শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকত। তাছাড়া সমুদ্রে ঝঞ্ঝা হলে বাঙ্ক থেকে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকলেও হ্যামক থেকে পড়ার জো ছিল না। বরং হ্যামক আরও জড়িয়ে ধরত তার ভিতরে শোয়া মানুষটিকে। চাদরের সেই বিছানাকে নাবিকেরা বলতেন ঝুলন্ত বিছানা বা হ্যাংগিং কাবন। সেই থেকেই নানা বদলের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে এ কালের হ্যামক।
অনেকেই মনে করেন, হ্যামক দিয়ে ঘর সাজালে ছুটির আমেজ আসে। কারণ, হ্যামক বললেই মনে হয় কোনও নদী কিং বা সমুদ্রের ধারে হাতে বই আর শরবতের গ্লাস নিয়ে ঝুলন্ত বিছানায় আরাম করার দৃশ্য। বাড়ির একটি কোনা তাই হ্যামক দিয়ে সাজানো গেলে বিষয়টি মন্দ হবে না। সারা দিনের কাজের ক্লান্তির শেষে নিজের জন্য যখন সময় পাবেন তখন ওই হ্যামকে গড়িয়ে নিন। বেড়াতে না গিয়েও ছুটির মেজাজ আসবে। বারান্দা, ছাদ বা বসার ঘর যেখানেই রাখুন, সে ঘরের ভোলই বদলে যাবে সুন্দর একটি হ্যামক দিয়ে সাজানো হলে।
কোথায় ঝোলাবেন?
- ঘরের কোনও একটি কোণকে আরাম করার জায়গা হিসেবে বেছে নিন।
- যদি জানলা দিয়ে আলো আসে, তবে সেখানে হ্যামক ঝোলানো সবচেয়ে ভালো। বিকেলের রোদে বই হাতে দোল খাওয়ার মজাই আলাদা।
- সোফার একপাশে বা বসার ঘরের কোণে যেখানে একটু ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানেও ঝোলানো যেতে পারে হ্যামক। রঙিন কুশন দিয়ে সাজিয়ে নিলে বসার ঘরের ভোল বদলে যাবে।
- যদি ছড়ানো বারান্দা থাকে, তবে সেখানেও হ্যামক মানাবে ভাল। রাতে চাঁদের আলো উপভোগ করতে পারেন হ্যামকে শুয়ে।
কী ধরনের হ্যামক স্টাইলিশ এবং আরামদায়ক?
ম্যাক্রামে হ্যামক: সুতোর বুনন করা এই হ্যামকগুলো এখন ট্রেন্ডি। এর অফ-হোয়াইট বা ক্রিম রং ঘরে এক ধরনের ‘বোহেমিয়ান’ বা ‘ভিন্টেজ’ লুক তৈরি করতে পারে।
ব্রাজিলিয়ান কটন হ্যামক: এগুলো মোটা কাপড়ের এবং খুব টেকসই। সাধারণত নেভি ব্লু, ধূসর, বাদামি বা সাদা রঙের ওই কটন হ্যামক বেশ অভিজাত দেখতেও লাগে।
হ্যামক চেয়ার: পুরো হ্যামক ঝোলানোর জায়গা না থাকলে এটি বেছে নিতে পারেন। সিলিং থেকে একটি মাত্র হুক দিয়েই এটি ঝোলানো যায় এবং দেখতেও খুব আধুনিক।
সাজাতে চাইলে
১। হ্যামকের ওপর দু’-তিনটি কন্ট্রাস্ট রঙের কুশন এবং একটি নরম 'থ্রো' ব্ল্যাঙ্কেট ফেলে রাখুন। দেখতে ভাল লাগবে।
২। হ্যামকের ঠিক নীচে একটি ছোট গোল কার্পেট বিছিয়ে দিন।
৩। হ্যামকের পাশে সাজিয়ে দিন একটি গাছ। সবুজের ছোঁয়া থাকলে মন এমনিই ভাল হয়ে যাবে।
৪। পাশে একটি ফ্লোর ল্যাম্পও রাখতে পারেন। কিংবা হ্যামকের ওপর দিয়ে পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দিতে পারেন ফেয়ারি লাইট।