আদা কী ভাবে হয়, গাজর বা কাঁচালঙ্কা গাছই বা কেমন দেখতে, বাড়িতে বসেই এমন শিক্ষা দিতে পারেন খুদেকে। হাতে-কলমে শিখবে সন্তান। সব্জি চিনবে, গাছের প্রতি যত্নের আগ্রহও তৈরি হবে। খাওয়ার জিনিসের পুষ্টিগুণও বুঝবে এই ভাবেই। কী ভাবে বাড়িতে থাকা সব্জি দিয়েই বাগান শুরু করা শেখাবেন?
বাড়ির পুরনো প্লাস্টিকের ড্রাম, পাত্র বা বাস্কেট কাজে লাগাতে পারেন টবের বদলে। সেই সব না থাকলে মাটির টব কিনে আনুন। তৈরি করে নিন মাটি। সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে খানিক কোকোপিট এবং জৈবসার মিশিয়ে নিলে গাছ বড় হওয়ার সময় মাটি থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে।
গাজরের চারা: ফ্রিজে ভরার আগে বাজার থেকে আনা টাটকা গাজরের উপরের সবুজ অংশটি-সহ এক ইঞ্চি কেটে নিন। সেটি রাখুন অল্প জল রয়েছে এমন পাত্রে। কাটা অংশের কিছুটা জলে ডুবে থাকবে। হালকা রোদ আসে এমন জায়গায় রাখলে কয়েক দিনেই চারা বেরোবে। কী ভাবে চারা বেরোচ্ছে তা শিশুকে দেখান। তাকেও জল দিতে বলুন। চারা বেরোনো গাজরের টুকরোটি টবের মাটিতে বসিয়ে নিন।
আদা: আদাও হয় মাটির নীচে। বাড়িতে আনা আদা থেকে কী ভাবে চারা তৈরি করা যায় তা দেখান খুদেকে। এই জন্য বেছে নিতে হবে একটু শুকিয়ে যাওয়া আদা। আদা তিন ইঞ্চি টুকরো করে কেটে নিতে হবে। সেটি ১-২দিন জলে ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম শুরু হবে। মাটিতে ২-৩ ইঞ্চি গর্ত খুঁড়ে তার নীচে রাখতে হবে। উপরে ঝুরঝুরে মাটি দিতে হবে, যাতে জল-হাওয়া মেলে। দিতে হবে খুব সামান্য জলও। এই অবস্থায় হালকা ছায়াযুক্ত জায়গায় টব রেখে দিন। ২-৩ সপ্তাহেই গাছ বেরোতে শুরু করবে। গোটা পদ্ধতির সময় খুদেকে সামনে রাখুন, তাকে জল দিতে বলুন। ধীরে ধীরে তার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
কাঁচালঙ্কা: আদা, গাজর মাটির নীচে হয়। মাটির উপরে গাছের ফলন বোঝাতে কাঁচালঙ্কা বেছে নিতে পারেন। কাঁচালঙ্কা রোদে শুকিয়ে নিন। খুদেকে সামনে রেখে কাজগুলি করুন। তবে হাতে লঙ্কা লাগলে হাত জ্বলতে পারে, তাই সাবধান। প্রয়োজনে তাকে দস্তানা পরিয়ে দিতে পারেন। শুকনো লঙ্কা থেকে বীজ বার করে টবে ছড়িয়ে অল্প জল দিন। হালকা রোদে টবটি রাখলেই ধীরে ধীরে চারা বেরোবে।