ঝটিকা সফরে রাজধানী দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দিল্লিতে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়। বিজেপি সূত্রে খবর, দুই নেতার মধ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে তো কথা হয়েছেই। পাশাপাশি রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নিশ্চিত আসনে কাকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানো যায়, সেই বিষয়টি চূড়ান্ত করতেই এই দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যসভার প্রার্থীর বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও কথা হয়েছে বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের।
চলতি বছর এপ্রিল মাসে দেশ জুড়ে রাজ্যসভার ৩৭টি আসন খালি হচ্ছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি। যদিও মৌসম বেনজির নূরের ইস্তফার কারণে পাঁচটির মধ্যে একটি আসন জানুয়ারি মাস থেকে খালিই রয়েছে। এই আসনগুলিতে ভোটাভুটি আসন্ন। চারটি আসনে শাসকদল তৃণমূল এবং একটি আসন বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে পারে, যদি না কোনও পক্ষ অতিরিক্ত এক জন প্রার্থী দেয়। ছ’জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলে তবেই রাজ্যসভার ভোট হবে।
আরও পড়ুন:
এ বারের ভোটে এক প্রার্থীকে জিততে ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন পেতে হবে। যেহেতু তৃণমূলের তরফে ২০০ জনের বেশি বিধায়ক রয়েছে, তাই তারা সহজেই চার জন প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারবে। অপরদিকে, বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫ জন থাকায় এক জন প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। সেই আসনে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে আলোচনা করতেই শুভেন্দুকে দিল্লিতে তলব করেছেন শাহ, এমনটাই বিজেপি সূত্রে খবর।
কারণ, বিজেপির যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে মনোনয়ন দাখিল করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গিয়ে। যেহেতু শুভেন্দু বিজেপির বিরোধী দলনেতা, তাই তাঁর ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ২০২২ সালে অনন্ত মহারাজ এবং ২০২৩ সালে শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্যসভায় পাঠানোর ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা ছিল শুভেন্দুর। তাই এ বারও তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে বিজেপি প্রার্থী করতে পারে, যার সামাজিক এবং রাজনৈতিক, উভয়ক্ষেত্রেই প্রভাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও যাতে সেই ব্যক্তির প্রভাবের সুফল মেলে। বৈঠক প্রসঙ্গে শাহ বা শুভেন্দু, কেউই প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। তাই শেষমেশ বাংলা থেকে বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি-র অন্দরে।