আলমারি খুললেই জামাকাপড় গায়ের উপর এসে পড়ে? টেবিল ভর্তি হয়ে থাকে কৌটো, মুদিখানার সামগ্রীতে। চেয়ারের উপর ডাঁই হয়ে থাকে পরা জামা? তা হলে বলতেই হয়, এই ছবি শুধু আপনার বাড়ির নয়। সপ্তাহভর ব্যস্ততার শেষে ছুটির দিনে এমন বাড়ি গোছাতে হবে ভাবলেই কান্না পায়। আর এই গড়িমসি করতে করতেই বাড়ির শ্রী গত হয়।
কিন্তু ঘরদোর পরিপাটি থাকলে শুধু যে অতিথি এলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না, তা নয়, মন-মেজাজও ভাল থাকে। ঘরে ঢোকার সঙ্গেই যদি চারদিক পরিচ্ছন্ন দেখায়, কার না ভাল লাগে! কিন্তু সেই কাজ করবে কে?
মুশকিল আসান হতে পারে ৫x৪ পদ্ধতিতে। সমাজমাধ্যমে এই নিয়ে জোর চর্চা। অনেকেই এমন পন্থা অনুসরণ করে লাভবান হয়েছেন। হোলি ব্ল্যাকি নামে একজন নেটপ্রভাবীর মতে, এই পদ্ধতির মূল কথা হল— পুরো ঘর গোছানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দরকার নেই। মাত্র ২০ মিনিটেই ক্লান্তি বা অতরিক্ত শ্রম ছাড়াই ঘরদোর পরিপাটি দেখাতে পারে।
নিয়মটি কেমন?
১. ৪টি ছোট কাজ বেছে নিন।
২. প্রতিটি কাজের জন্য ৫ মিনিট সময় বরাদ্দ করুন।
৩. নির্দিষ্ট সময় ধরেই একটি কাজ করতে হবে। টাইমার সেট করে রাখুন বা ৫ মিনিট গান চালিয়ে দিন। ৫ মিনিট পরেই পরের কাজে হাত দিতে হবে।
নিয়ম করে ২০ মিনিট দিলেই, ঘরদোর পরিষ্কার থাকবে, আচমকা অতিথি আসছেন শুনলে মাথায় হাত পড়বে না।
পদ্ধতির নেপথ্য ভাবনা
আলস্য কাটানো: মস্তিষ্ক অনেক সময় বড় কাজ দেখে ভয় পায় এবং কাজ শুরু করতে চায় না। এই পদ্ধতি যেহেতু স্বল্প সময়ের, তাই চট করে ক্লান্তি আসে না বা ভয়ের বিষয় থাকে না।
সময় বনাম কার্যকারিতা: হয়তো ৫ মিনিটে পুরো অভেন পরিষ্কার করা যাবে না বা আলমারি গোছানো যাবে না। তবু ওই ৫ মিনিটে কিছু কাজ হবে। এই ভাবে নিয়ম করে কাজ করলেই ঘরদোর আগের চেয়ে পরিষ্কার দেখাবে।
মানসিক প্রশান্তি: টানা ২০ মিনিটে ৪টি কাজ করার পর ঘরটি আগের চেয়ে অনেক গোছানো দেখলে আত্মবিশ্বাস এবং প্রশান্তি আসবে।
কী ভাবে কাজটি করা যেতে পারে
প্রথম ৫ মিনিট: ঘরের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাপড়গুলো গুছিয়ে রাখা।
দ্বিতীয় ধাপে ৫ মিনিট: রান্নাঘরের স্ল্যাব বা কাউন্টারটপ মুছে পরিষ্কার করে নিন।
তৃতীয় ধাপে ৫ মিনিট: বসার ঘরে সোফার কুশনগুলো ঠিক করুন এবং টেবিলের উপরে রাখা অপ্রয়োজনীয় কাগজ, জিনিস সরিয়ে ফেলুন।
শেষ ৫ মিনিট: বেসিনে থাকা কয়েকটি বাসন ধুয়ে ফেলতে পারেন বা হেঁশেল কিছুটা পরিষ্কার করে নিতে পারেন। কিংবা কেচে রাখা পোশাক ভাঁজ করে নিতে পারেন।