×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ মে ২০২১ ই-পেপার

রদবদলে পাখির চোখ কর্মসংস্থান

প্রথম দিনেই লক্ষ্য ঘোষণা তিন মন্ত্রীর

প্রেমাংশু চৌধুরী
নয়াদিল্লি ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৩:০৯
(বাঁ দিক থেকে) ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুরেশ প্রভু ও সন্তোষ গাঙ্গোয়ার।

(বাঁ দিক থেকে) ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুরেশ প্রভু ও সন্তোষ গাঙ্গোয়ার।

যে-সমস্ত প্রতিশ্রুতির পিঠে চেপে ‘দিল্লি দখল’ সম্ভব হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল কর্মসংস্থান। গত লোকসভা ভোটে বছরে দু’কোটি কাজের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, সেই কাজ এগোচ্ছে শামুকের গতিতে। বিঁধছেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি দরবারে রদবদল শেষে নতুন দায়িত্ব নিয়ে তিন মন্ত্রীই জানিয়ে দিলেন, এখন ওই কাজের সুযোগ তৈরিকেই পাখির চোখ করছেন তাঁরা।

সোমবারই দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব নিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রকে এলেন সুরেশ প্রভু। শ্রম মন্ত্রকের রাশ গেল সন্তোষ গাঙ্গোয়ারের হাতে। প্রথম দিনেই তিন জন যা বললেন, তার মূল প্রতিপাদ্য, আরও অনেক বেশি কাজের সুযোগ তৈরিই মূল লক্ষ্য তাঁদের।

প্রধান যেমন প্রতি মাসে ১০ লক্ষ নতুন ছেলেমেয়ের চাকরি-বাজারে পা রাখার কথা বললেন, তেমনই কমবয়সিদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেন গাঙ্গোয়ার। প্রভু একই লক্ষ্যে জোর দিতে চান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া’র মতো প্রকল্প ও ব্যবসার পথ সহজ করার উপর।

Advertisement

দিল্লি দরবারে অনেকেই বলছেন, এ দিন নতুন দায়িত্ব নেওয়া মন্ত্রীদের কথা থেকেই স্পষ্ট যে, কাজের সুযোগ তৈরি নিয়ে মোদী সরকার কী প্রবল চাপে! তারা বিলক্ষণ জানে, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এ নিয়ে আক্রমণ শাণাতে তৈরি হচ্ছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই তাঁরা বলছেন, যারা কোটি কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের জমানায় ২০১৫ সালে কাজের সুযোগ তৈরি তৈরি হয়েছে মাত্র দেড় লক্ষ। ২০১৬ সালে ওই সংখ্যা ২.৩১ লক্ষ। তা-ও হিসেবের পদ্ধতি বদলে।

আরও পড়ুন: মুখ বদলে কি বদলাবে রেল

দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে শ্রম মন্ত্রক— দেখা যাচ্ছে কাজের সুযোগ তৈরির সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ মন্ত্রকেই এ বার মন্ত্রী বদল হয়েছে। সে দিকে ইঙ্গিত করে এ দিন কংগ্রেস মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারির দাবি, ‘‘মোদী নিজেই মেনে নিলেন, গত তিন বছরে তাঁর সরকার চাকরির সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ।’’

প্রতি মাসে চাকরির বাজারে পা রাখছে ১০ লক্ষ নতুন ছেলে-মেয়ে। তাই সেই সুযোগ তৈরি করাটা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ।

ধর্মেন্দ্র প্রধান

দক্ষতা উন্নয়নমন্ত্রী

আরও বেশি কাজের সুযোগ তৈরিই লক্ষ্য। আর তাই জোর দিতে চাই মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়ার মতো প্রকল্পে।

সুরেশ প্রভু

শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নীচে। তাই কাজের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতেই হবে।

সন্তোষ গাঙ্গোয়ার

শ্রম প্রতিমন্ত্রী

বণিকসভার কর্তা ও অনেক অর্থনীতিবিদের মতে চ্যালেঞ্জটা কঠিন। ক্ষমতায় এসে চাকরি বা ব্যবসার প্রশিক্ষণ দিতে রাজীব প্রতাপ রুডিকে দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকে আনেন মোদী। ১৪ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিতে বরাদ্দ হয় ১,৫০০ কোটি টাকা। সেই লক্ষ্য ছাপিয়ে ১৮ লক্ষ জন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কিন্তু চাকরি জুটেছে মাত্র ১ লক্ষের বরাতে।

সরকারি সূত্র বলছে, রুডিকে সরানোর এটাই কারণ। আগুপিছু না-ভেবে তিনি ২০২০ সালের মধ্যে ১ কোটি জনকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ঘোষণা করেন। বণিকসভার এক কর্তার মতে, ‘‘লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে এত স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যে, শিল্পের চাহিদা মেটেনি।’’ এ দিন তাঁর জায়গায় আসা প্রধান বলেছেন, ‘‘প্রথাগত শিক্ষার মধ্যেই বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ঢোকাতে হবে।’’

কাজের সুযোগ তৈরির জন্য প্রভুর সামনে আবার বড় চ্যালেঞ্জ হল, রফতানি ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করা। মার্কিন মুলুকে ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাঁড়াশি আক্রমণে কাজ খোয়াচ্ছেন এ দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অনেক কর্মী। সেই সমস্যাও সামাল দিতে হবে তাঁকে। একে রফতানির পালে এখনও হাওয়া নেই। তার উপর দেশীয় লগ্নিতে চলছে ভাটার টান। এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বাড়াতে লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে ব্যবসার পরিবেশ অনুকূল করার চ্যালেঞ্জও নিতে হবে তাঁকে।

শিল্পমহলের অভিযোগ রয়েছে শ্রম সংস্কার ধীরে চলা নিয়েও। কর্মসংস্থানেও তার প্রভাব পড়েছে। বন্দারু দত্তাত্রেয়কে সরিয়ে গাঙ্গোয়ারকে আনা না কি সেই কারণে।



Tags:
Santosh Gangwar Suresh Prabhu Dharmendra Pradhan Ministerসুরেশ প্রভুধর্মেন্দ্র প্রধান Jobs Growth

Advertisement