জোসেফ-নরিম্যান, সুপ্রিম কোর্টের যে দুই বিচারপতিকে নিয়ে অস্বস্তিতে মোদী-অমিত জুটি
সিনিয়র কাউন্সেল থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত হন আর এফ নরিম্যান। ২০১১-র ২৩ জুলাই তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন দেশের সলিসিটর জেনারেল পদে। তার আগে বার কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন তিনি।
রাফাল থেকে শবরীমালা। সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন প্রশ্নে বিজেপি তথা মোদী-অমিত জুটির পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি। বিচারপতি কে এম জোসেফ এবং বিচারপতি আর এফ নরিম্যান।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে জোসেফকে নিয়োগ করার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি ছিল বিজেপি সরকারের। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের অনড় অবস্থানে তাঁকে নিয়োগ করতে বাধ্য হয় নরেন্দ্র মোদী সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জোসেফ ছিলেন উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি এবং তার আগে কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি।
জোসেফের জন্ম ১৯৫৮ সালের ১৭ জুন, কেরলের কোট্টয়মে। তাঁর বাবা কে কে ম্যাথিউ-ও ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি।
রাফাল মামলায় বিচারপতি কে এম জোসেফের রায়কে আঁকড়ে ধরে ফের সরব হয়েছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ রাফাল চুক্তিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বাকি দু’জনের সঙ্গে সম্মত হলেও বিচারপতি জোসেফ বলেছেন, সিবিআই নিজে তদন্ত করতে চাইলে কোনও বাধা নেই। দুর্নীতি দমন আইনে ১৭এ ধারায় সিবিআইকে সরকারি কর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আগাম অনুমতি নিতে হয়। তাঁর যুক্তি, সেই অনুমতি নিয়ে সিবিআই তদন্ত করতেই পারে।
এর আগে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে কে এম জোসেফ সে রাজ্যে মোদী সরকারের রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, সে কারণেই তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে মোদী সরকারের আপত্তি ছিল।
গত বছর অগস্টে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন জোসেফ। কিন্তু ততদিনে কেন্দ্রের টালবাহানায় দেরি হয়ে গিয়েছে। যখন তিনি শপথ নেন, তখন তিনি শীর্ষ আদালতের ২৫ জন বিচারপতির তালিকায় একেবারে শেষে।
এই তালিকায় পিছিয়ে যাওয়ায় ২০২৩-এ পঞ্চম প্রবীণতম বিচারপতি তথা কলেজিয়ামের সদস্য হিসেবে অবসর নেবেন বিচারপতি জোসেফ। কিন্তু আগে শপথ নিলে তিনি ভবিষ্যতে তিন প্রবীণতম বিচারপতির তালিকায় চলে আসতেন। হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগে তিন প্রবীণ বিচারপতির কলেজিয়ামের সিদ্ধান্তেও তাঁর ভূমিকা থাকত।
আরও পড়ুন:
সিনিয়র কাউন্সেল থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত হন আর এফ নরিম্যান। ২০১১-র ২৩ জুলাই তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন দেশের সলিসিটর জেনারেল পদে। তার আগে বার কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন তিনি।
বিচারপতি নরিম্যানের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৩ অগস্ট। মুম্বইয়ের ক্যাথিড্রাল অ্যান্ড জন ক্যানন স্কুল থেকে পাশ করার পরে তিনি বি কম উত্তীর্ণ হন শ্রীরাম কলেজ অব কমার্স থেকে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন। হার্ভার্ড ল’ স্কুল থেকে লাভ করেন এলএলএম ডিগ্রি।
২০১৮-র ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট যখন শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাকে প্রবেশাধিকার দিয়েছিল, তখন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের এক জন সদস্য, বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন।
বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র মনে করেছিলেন, ধর্মীয় ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মামলাকে আমল দিলে তাতে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের সুবিধা হবে। নিজেরা সংশ্লিষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী না হলেও ধর্মাচরণ ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন তাঁরা।
বিচারপতি মলহোত্রর সেই আশঙ্কা ‘ভিত্তিহীন’ ছিল বলে বৃহস্পতিবার শবরীমালা মামলায় নিজের পৃথক রায়ে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি আর এফ নরিম্যান।
বিচারপতি নরিম্যান বলেছেন, ‘‘বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের রায় ছিল, শবরীমালা মন্দিরের উপাসক নন, এমন ব্যক্তিদের মামলা গ্রাহ্য হলে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলার স্রোত বয়ে যাবে। আমরা এই রায়ে নির্দিষ্ট করে বলেছি অন্যদের, বিশেষত সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকারকে খাটো করার লক্ষ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়কে ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মান্ধ, খামখেয়ালি, কায়েমি স্বার্থান্বেষীদের গোড়া থেকেই ফিরিয়ে দেবে আদালত। ফলে ওই আশঙ্কা ভিত্তিহীন।’’