E-Paper

প্রার্থী ঘোষণা করেই মাঠে বিজয়নেরা, জটে কংগ্রেস

কেরলের ১৪০ বিধানসভা আসনে একই সঙ্গে ভোট হবে আগামী ৯ এপ্রিল। ক্ষমতাসীন এলডিএফের প্রধান শরিক সিপিএম সেখানে লড়বে ৮৬টি আসনে।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:১২
কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন। তিরুঅনন্তপুরমের এ কে জি সেন্টারে।

কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন। তিরুঅনন্তপুরমের এ কে জি সেন্টারে। নিজস্ব চিত্র।

দেশের একমাত্র বাম সরকারকে রক্ষা করার লক্ষ্যে এ বার মরিয়া লড়াই! বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী ঘোষণা করে সেই লড়াইয়ের ময়দানে নেমে গেল কেরলের সিপিএম।

কেরলের ১৪০ বিধানসভা আসনে একই সঙ্গে ভোট হবে আগামী ৯ এপ্রিল। ক্ষমতাসীন এলডিএফের প্রধান শরিক সিপিএম সেখানে লড়বে ৮৬টি আসনে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট করার পরেই তিরুঅনন্তপুরমের এ কে জি সেন্টারে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন ৮১ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে প্রত্যাশিত ভাবেই সামনে রেখে তৃতীয় বার সরকার গড়ার লড়াইয়ে যাচ্ছে সিপিএম। বিজয়ন-সহ ৫৫ জন বর্তমান বিধায়ককে ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ১১ জন মন্ত্রী। প্রথম দফায় ঘোষিত ৮১ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন রয়েছেন সিপিএম সমর্থিত নির্দল। গোবিন্দন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘‘আমরা আরও পাঁচ আসনে নির্দল প্রার্থী দেব।’’ বাকি পাঁচ আসন ছেড়ে রাখলে সিপিএমের নিজস্ব প্রার্থী তালিকা সম্পূর্ণ। নির্দলদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার, কলকাতা ময়দানে খেলে যাওয়া ইউ শরাফ আলি।

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে কে শৈলজা, কে এন বালগোপাল, পি রাজীব, টি পি রামকৃষ্ণনেরা ফের প্রার্থী হয়েছেন। টিকিট দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি, বীণা জর্জ, পি মহম্মদ রিয়াজ়, আর বিন্দু, এম বি রাজেশদেরও। দলের রাজ্য সম্পাদক হয়ে যাওয়ায় গোবিন্দন এ বার আর ভোটে লড়ছেন না। গোবিন্দনের ছেড়ে যাওয়া কেন্দ্র কান্নুর জেলার তালিপরম্বা থেকে তাঁর স্ত্রী, মহিলা সংগঠনের নেত্রী পি কে শ্যামলার নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাজ্য সম্পাদকই! একই দিনে বাম শরিক সিপিআই ২৫ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে আছেন চার মন্ত্রী। তালিকা প্রকাশের পরে প্রার্থীদের একাংশ রোড-শো করে প্রচারেও নেমে গিয়েছেন।

আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েও কংগ্রেস অবশ্য এখনও তালিকা ঘোষণা করতে পারেনি। একটি সূত্রের খবর, রাজ্য থেকে লোকসভার সাংসদদের মধ্যে কাউকে বিধানসভায় প্রার্থী করা হবে কি না, সেই প্রশ্নে নতুন করে জট বেধেছে। কান্নুরের সাংসদ ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে সুধাকরন ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। সুধাকরনের দাবি, বিধানসভায় তাঁকে লড়তে দেওয়া হবে, এই সমঝোতার ভিত্তিতেই রাজ্যে লোকসভা ভোটে দলের সাফল্যের পরেও তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। সুধাকরনকে নিরস্ত করতে রাহুল গান্ধী দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন বলে কংগ্রেস সূত্রের খবর। বিরোধী শিবিরের এই টানাপড়েনের মধ্যেই কেরলে একাধিক সংস্থার সমীক্ষায় বিজয়ন সরকারের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সামান্য বেশি জনমতের ইঙ্গিত উঠে এসেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pinarayi Vijayan Kerala

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy