×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জুন ২০২১ ই-পেপার

তিন বছরে ২০ ঘূর্ণিঝড়, দাপটে নাজেহাল কেরল

সন্দীপন চক্রবর্তী
কলকাতা ১৭ মে ২০২১ ০৬:২৭
মেঙ্গালুরুর কাছে সমুদ্র সৈকতে জলোচ্ছ্বাস।  রবিবার।

মেঙ্গালুরুর কাছে সমুদ্র সৈকতে জলোচ্ছ্বাস। রবিবার।
ছবি: পিটিআই

ঘূর্ণিঝড় ‘টাউটে’-র দাপটে এখন বিপর্যস্ত কেরলের প্রায় অর্ধেক জেলা। কিন্তু এই বিপদ শুধু এ বারের নয়। তিন বছরে ২০টা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করতে হয়েছে দক্ষিণের এই ছোট রাজ্যকে! এত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে কী ভাবে যুঝে ওঠা যায়, সেই পথ খুঁজতে হচ্ছে রাজ্যকে।

কেরলের সরকারি সূত্র বলছে, গত তিন বছরে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে ১০টি করে মোট ২০টি ঘূর্ণিঝড় এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে উপকূলবর্তী এই রাজ্যে। আরব সাগরে দুর্যোগ ঘনীভূত হলে তার প্রত্যক্ষ অভিঘাতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় কেরলের। বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তুলনায় কিছুটা কম। রাজ্যের এক বিদায়ী মন্ত্রীর কথায়, ‘‘আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘নিসর্গ’, ‘গতি’র মোকাবিলা করতে হয়েছে ২০২০ সালে। তার আগের বছর ছিল ‘মহা’, ‘পবন’, ‘বায়ু’র মতো ঘূর্ণিঝড়। তার অতিরিক্ত ছিল বঙ্গোপসাগরের ‘ফণী’ বা ‘আমপান’। পরিকাঠামো যা তৈরি করা হচ্ছে, অল্প দিনেই নতুন দুর্যোগ এসে তার অনেক কিছু ক্ষতি করে দিচ্ছে!’’

প্রশাসনিক তথ্য বলছে, আগে বছরে একটি, কদাচিৎ দু’টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হত আরব সাগরে। সাম্প্রতিক অতীতে আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা যেমন বেড়ে গিয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার তীব্রতা। পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে জোরদার করেও আঘাত সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। বৃষ্টি ও ধসে ঘর ভাঙছে, সাগর ফুঁসে উঠে উপকূল এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসছে। আবার একের পর এক জেলায় বাঁধের ক্ষমতার সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জলভাসি হয়ে যাচ্ছে বহু এলাকা। সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে জলবাহিত রোগ। সরকারি এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘বিপর্যয় মোকাবিলায় গত কয়েক বছরে অনেক বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও মোকাবিলার ব্যবস্থা দুর্যোগের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছে না। যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখিয়েও কত লোককেই বা আগাম সরিয়ে আনা সম্ভব?’’

Advertisement

কোভিড মোকাবিলায় লকডাউনের মেয়াদ আপাতত ২৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে রেখেছে কেরল সরকার। তিরুঅনন্তপুরম, এর্নাকুলম, ত্রিশূর ও মল্লপুরম জেলায় রয়েছে ট্রিপল লকডাউন। অতিমারি পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও এখনও হয়নি। তার মধ্যেই ফের ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা! ট্রিপল লকডাউনের কড়া ঘেরাটোপে থাকা জেলাগুলোয় এসে পড়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঢেউও। চতুর্দিকে বিপদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের আবেদন, ‘‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে কোভিড মোকাবিলাকে অবহেলা করা যাবে না। কেউ বিধি ভাঙবেন না। ট্রিপল লকডাউন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ফুড-কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যত্র রেশন দোকান মারফত দেওয়া হবে। দ্রুত ই-রেশন কার্ডও চালু হয়ে যাবে।’’ প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার হলুদ রেশন কার্ডধারীর জন্য ফুড-কিটের ব্যবস্থা করছে কেরল সরকার।

ঝড়ে গাছ উপড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গোয়ার পঞ্জিমের একটি রাস্তা। গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা।

ঝড়ে গাছ উপড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গোয়ার পঞ্জিমের একটি রাস্তা। গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা।
ছবি: পিটিআই


কোভিড মোকাবিলায় লকডাউন ২৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে রেখেছে কেরল সরকার। তিরুঅনন্তপুরম, এর্নাকুলম, ত্রিশূর ও মল্লপুরম জেলায় রয়েছে ট্রিপল লকডাউন। অতিমারি পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও এখনও হয়নি। তার মধ্যেই ফের ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা! ট্রিপল লকডাউনের কড়া ঘেরাটোপে থাকা জেলাগুলোয় এসে পড়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঢেউও। চতুর্দিকে বিপদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের আবেদন, ‘‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে কোভিড মোকাবিলাকে অবহেলা করা যাবে না। কেউ বিধি ভাঙবেন না। ট্রিপল লকডাউন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ফুড-কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যত্র রেশন দোকান মারফত দেওয়া হবে। দ্রুত ই-রেশন কার্ডও চালু হয়ে যাবে।’’ প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার হলুদ রেশন কার্ডধারীর জন্য ফুড-কিটের ব্যবস্থা করছে কেরল সরকার।

Advertisement